ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল কানাডা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

কানাডা সরকার নাগরিকত্ব আইনে বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন আইনের আওতায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে কানাডার বাইরে জন্ম নেওয়া যে কেউ যদি নিজেকে কানাডীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগে এই সুযোগ কেবল প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল, অর্থাৎ বাবা বা মা সরাসরি কানাডার নাগরিক না হলে আবেদন করা যেত না।

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরাও নাগরিকত্ব পেতে পারবেন, যদি তাদের জন্মের আগে বাবা বা মা কানাডার নাগরিক হন অথবা অন্তত ১০৯৫ দিন কানাডায় বসবাস করে থাকেন। ২০২৩ সালে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিস প্রথম প্রজন্মভিত্তিক নাগরিকত্ব সীমাবদ্ধতাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর এই আইন কার্যকর করা হয়।

নতুন আইনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কানাডীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। কুইবেকের জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভসে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি খোঁজার আবেদন হঠাৎ বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ৩২টি আবেদন ছিল, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে নাগরিকত্ব সনদ পেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেকে তাদের পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশের খোঁজেও অনেকেই কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। অভিবাসন পরামর্শক ক্যাসান্দ্রা ফল্টজ জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে এই আগ্রহ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার ৭০০ মার্কিন নাগরিক কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৩০০ জনে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার জন পিআর পেয়েছেন। কানাডার বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, এবং বংশসূত্রে নাগরিকদের এক-তৃতীয়াংশ সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন।

ইমিগ্রেশন প্রোগ্রামে কাটছাঁট

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কানাডা সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টুডেন্ট ডাইরেক্ট স্ট্রীম (এসডিএস),নক পরিচয় কিছু সুবিধা এবং অস্থায়ী পাবলিক পলিসি পথ, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে পথ হয়েছিল।

ওয়ার্ক পারমিটে কড়াকড়ি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বামী/স্ত্রীর জন্য উন্মুক্ত কর্ম অনুমতিপত্র (SOWP) সীমিত করা হচ্ছে, ফলে সব শিক্ষার্থী বা কর্মীর পত্নী আর সহজে ওয়ার্ক পারমিট পাবেন না। এলএমআইএ ভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে প্রমাণ করতে হবে কেন স্থানীয় কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কম মজুরির শ্রমিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সময় সীমিত করা হচ্ছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত

সরকারের মতে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা এখন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ‘ধীর ও নিয়ন্ত্রিত’ করতে চায়।

এই পরিবর্তনের ফলে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং পিআর পাওয়ার পথ আগের তুলনায় জটিল হয়ে উঠবে। ওয়ার্ক পারমিট ও স্পন্সরশিপেও বাধা বাড়তে পারে। এমনকি এরই মধ্যে কানাডায় থাকা ব্যক্তিরাও নতুন নিয়মের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা কানাডায় যেতে চান বা ইতোমধ্যে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।