মার্কিন বিচার বিভাগ গত শুক্রবার কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও ছবি উঠে এসেছে।
এর আগে প্রকাশিত নথির মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসন নথিতে আলোচনায় এসেছিলেন। নতুন প্রকাশিত নথির মাধ্যমে আলোচনায় আসা ব্যক্তিরা কীভাবে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তা তুলে ধরা হলো।
নরওয়ের রাজকন্যা
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে নরওয়ের রাজকন্যা মেটে-মারিটের নাম অন্ততে এক হাজার বার এসেছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের এপস্টেইন ও মেটের মধ্যে আদান-প্রদান হয়েছে। এক ইমেইলে মেটে-মারিট লিখেছিলেন, ‘আমার ১৫ বছর বয়সী ছেলের ওয়ালপেপারের জন্য সার্ফবোর্ড বহনকারী দুই নারীর নগ্ন ছবি দেওয়া কি কোনো মায়ের জন্য অশোভন হবে?’
মেটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোইবি বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী। চার নারীকে ধর্ষণসহ ৩৮টি অপরাধের অভিযোগে তিনি ওসলোর জেলা আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে এপস্টেইনের সঙ্গে মেটের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য প্রকাশ পায়।
নথি প্রকাশের পর গত শনিবার মেটে-মারিট বলেন, ‘এপস্টাইনের সঙ্গে যে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমার বিচারবুদ্ধি তখন ঠিক ছিল না।’
নরওয়ের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মেটে-মারিট। তাঁর তখন মনে হয়েছিল, রাজকন্যার সঙ্গে যোগাযোগকে অন্য মানুষদের সামনে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব হিসেবে উপস্থাপন করতেন এপস্টেইন।
সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে আবারও ফেঁসে গেছেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। নতুন ছবিতে দেখা গেছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু মেঝেতে শুয়ে থাকা চার নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। ছবিগুলো কখন তোলা হয়েছে তা জানা যায়নি।
গত বছরের অক্টোবরে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় পদবি ও সম্মাননা বাতিল করেন। তবে এখনও তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামেই বেশি পরিচিত। মৃত্যুর আগে ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামে এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তাঁর ১৭ বছর বয়সে।
নতুন নথি প্রকাশের পর অ্যান্ড্রুকে নিয়ে শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি মনে করেন মার্কিন কংগ্রেসে অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ দূত
ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বে থাকা পিটার ম্যান্ডেলসনও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে গত বছর তাঁকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। নতুন নথি প্রকাশের পর রোববার তিনি লেবার পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাংকিং রেকর্ডে দেখা গেছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের অ্যাকাউন্টে ৭৫ হাজার ডলার স্থানান্তর করেছিলেন। যদিও ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এই লেনদেনের কোনও রেকর্ড নিজের কাছে রাখেননি।
লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদকের কাছে লেখা এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘যেসব অভিযোগকে আমি মিথ্যা বলে বিশ্বাস করি, সেগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।’ ম্যান্ডেলসন উল্লেখ করেন, দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে তিনি পদত্যাগ করছেন।
নতুন প্রকাশিত ছবিতে টি-শার্ট ও অন্তর্বাস পরা এক নারীর পাশে ম্যান্ডেলসনকে দেখা গেছে। ওই নারীর মুখের অংশ মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্পষ্ট করে দিয়েছে। ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেছেন, তিনি ওই নারীকে চিনতে পারছেন না। জায়গাটি কোথায় তাও শনাক্ত করতে পারছেন না। এপস্টেইনের দ্বারা ভুক্তভোগীদের কাছে গত জানুয়ারিতে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন।



