যুক্তরাজ্য ধূমপান নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী ও কঠোর আইন ঘোষণা করেছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্মগ্রহণকারী কেউ জীবনে কখনোই সিগারেট কিনতে পারবেন না। দীর্ঘ প্রচারণার পর এই সিদ্ধান্তকে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধূমপানবিরোধী সংগঠন অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথ–এর প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ‘ধূমপান শেষ করা এবং এর কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ক্ষতির অবসান এখন আর অনিশ্চিত নয়- এটি অবশ্যম্ভাবী।’
‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভেইপস বিলের’ আওতায় ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সিগারেট কেনা আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই আইন কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদন প্রয়োজন, যা সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই আইন সরকারকে তামাক, ভেইপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য- যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত-নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৮ বছরের নিচে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভেইপ বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। তবে প্রতি বছর ধূমপানের ন্যূনতম বয়স বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি কার্যত আজীবনের নিষেধাজ্ঞায় পরিণত হচ্ছে।
এই আইন যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের অন্যতম কঠোর ধূমপানবিরোধী নীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এর আগে নিউজিল্যান্ডে অনুরূপ একটি আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। তবুও বর্তমানে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ—অর্থাৎ জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ—এখনো ধূমপান করেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ধূমপানের কারণে মারা যান। এটি দেশটিতে মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন