স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবির পরও পদ ছাড়ছেন না যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলীয় এমপিদের একাংশের তীব্র চাপের মুখেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই দায়িত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। প্রয়োজনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের সরকারকে ‘১০ বছরের প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে স্টারমার বলেছেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন এবং মাঝপথে সরে দাঁড়াবেন না।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি গত তিন দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী দল রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে।
স্টারমার সরকারের সাবেক মন্ত্রী কেথরিনা ওয়েস্ট সতর্ক করে বলেছেন, সোমবারের মধ্যে মন্ত্রিসভা যদি স্টারমারকে সরানোর উদ্যোগ না নেয়, তবে তিনি নিজেই দলীয় আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে রোববার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম, তা অসমাপ্ত রেখে চলে যাব না। আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিতে চাই না।
২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নেতৃত্ব দেব।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্টারমারের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি এই রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন।
স্টারমার এখন পদত্যাগ করলে বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে।
স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন স্কাই নিউজকে বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে আমরা বড় ধরনের বার্তা পেয়েছি। এতে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। তবে তার বিশ্বাস, স্টারমার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন।
তিনি জানান, সোমবার এক ভাষণে স্টারমার ব্রিটেনের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা বা ‘ফ্রেশ ডিরেকশন’ তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে লেবার পার্টির বামপন্থি অংশ ক্যাথরিন ওয়েস্টের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। দলটির প্রবীণ নেতা জন ম্যাকডোনেল ও ইয়ান বার্নের মনে করছেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা দলীয় কোন্দল আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য নন। ফলে তাকে সামনে আনতে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা রয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে স্টারমারকে। তিনি যদি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেন এবং পরবর্তী নির্বাচনেও জয় পান, তবে মার্গারেট থ্যাচার ও টনি ব্লেয়ারের- এর পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম উঠে আসবে।
তবে আপাতত দলের ভেতরের বিদ্রোহ সামাল দেওয়া এবং সোমবারের ভাষণে নতুন দিকনির্দেশনা তুলে ধরাই স্টারমারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

