ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হয়েছে।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগভিত্তিক অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল, যাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতায় না নামে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাবেলোর সঙ্গে সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। অভিযানের পরও সেই যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
সূত্রগুলো জানান, ৩ জানুয়ারির অভিযানের পর থেকে ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মূলত কাবেলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে মাদক পাচারের অভিযোগপত্র ব্যবহার করে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল, সেই একই অভিযোগপত্রে কাবেলোর নামও উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই এই যোগাযোগ চলছিল এবং মাদুরোকে আটকের আগের কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই যোগাযোগ ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছিল, কাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী মাঠে নামান, তাহলে দেশটিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
কাবেলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো স্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং পরে মাদুরোর অন্যতম প্রধান অনুগত হিসেবে পরিচিত হন। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ধরিয়ে দিতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করলেও কাবেলো সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

