মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের জন্য দেওয়া সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা বাতিল করেছেন। জো বাইডেন হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে কমলা হ্যারিসের জন্য এ সুরক্ষার সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন। হ্যারিসের এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জানুয়ারিতে পদ ছাড়ার পর কমলা হ্যারিস ছয় মাসের জন্য সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। এ সময়সীমা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাইডেনের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় তা আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এক স্মারকে সেটি বাতিল করেন।
এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো যখন কমলা হ্যারিস তার নতুন বই ‘১০৭ ডেজ’ নিয়ে জাতীয় সফরে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বইটি তার স্বল্পস্থায়ী ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনির ব্যর্থ প্রচার নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা।
সিবিএসসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে হ্যারিসের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়ার মতো কোনো উদ্বেগজনক বিষয় পাওয়া যায়নি।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যাতে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তাদের স্ত্রী, স্বামী এবং ১৬ বছরের কম বয়সি সন্তানদের সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
কমলা হ্যারিস জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সাত মাসের বেশি সময় ধরে পদে নেই। তার স্বামীর সুরক্ষা এরই মধ্যে ১ জুলাই শেষ হয়ে গেছে।
সুরক্ষা প্রত্যাহারের ফলে লস অ্যাঞ্জেলেসে কমলা হ্যারিসের বাড়ি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত এজেন্টরা আর থাকবেন না। ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিলে খরচ বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস এ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেয়র ক্যারেন ব্যাস সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ। এটি কমলা হ্যারিসকে বিপদের মুখে ফেলছে।’
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হান্টার ও অ্যাশলে বাইডেন (জো বাইডেনের সন্তান) এবং অ্যান্থনি ফাউসিসহ (সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) বেশ কয়েকজনের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা বাতিল করেছেন। এমনকি তারই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সুরক্ষাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একাধিকবার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিলেন। সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় তার ঝুঁকি আরও বেড়েছিল।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প নিজেও দুটি হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েন, যেখানে সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে ভার্জিনিয়ার এক ব্যক্তি কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হত্যা, অপহরণ বা ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০২১ সালে ফ্লোরিডার এক নারী কমলা হ্যারিসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার দায়ে দোষ স্বীকার করেন।