× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

অপূর্ণ থেকে গেল সেলেসাওদের হেক্সা স্বপ্ন

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

অপূর্ণ থেকে গেল সেলেসাওদের হেক্সা স্বপ্ন

কোন বিষয় থেকে বলা শুরু করব বুঝে উঠতে পারছি না। ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস, এন্দ্রিকের সহজ গোল মিস নাকি কোচের ভুল সিদ্ধান্ত? বলার মতো অনেক বিষয়ই রয়েছে।

ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর, নান্দনিক এবং বেদনাবিধুর অধ্যায়গুলোর রচয়িতা ব্রাজিল। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের যে ঐতিহ্য লাতিন আমেরিকার এই দেশটিকে বিশ্বফুটবলের পবিত্র ভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, তা আজ গভীর সংকটের মুখে। বিগত দুই দশক ধরে ব্রাজিল মহাকাব্যের শেষ পাতাগুলো শুধু অশ্রু, হাহাকার ও বেদনায় নীল। আরও একবার ইউরোপীয় রণকৌশলের চক্রব্যূহে বন্দি হয়ে মহাজাগতিক ট্র্যাজেডির সম্মুখীন হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর তীব্র উত্তেজনাকর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল।  যার মাধ্যমে ব্রাজিলের ফুটবলীয় অহংকার, আধুনিক রণকৌশলগত অসাড়তা এবং সামগ্রিক কাঠামোর নির্মম ও ঐতিহাসিক ময়নাতদন্ত দেখল বিশ্ব। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই পুড়লো ব্রাজিলের কপাল। আরও একবার হেক্সার সোনালি স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল সাম্বার দেশের, যা কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

ম্যাচের প্রথম ধাক্কা

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৪ মিনিট। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তের চোখে তখন প্রত্যাশার আলো। মাঠের বাঁ-প্রান্ত থেকে আসা একটি ক্ষিপ্র আক্রমণ রুখতে গিয়ে নরওয়েজিয়ান ডিফেন্ডার ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গ্যালারিতে তখন উল্লাসের গর্জন, মনে হয়েছিল, ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এবং প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। স্পট কিক নিতে এলেন মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক অরজান নিল্যান্ডের ইস্পাতকঠিন মনোযোগ এবং ক্ষিপ্রতার কাছে পরাস্ত হলেন তিনি। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিমারায়েসের শটটি রুখে দেন নিল্যান্ড। এই ঘটনা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে কোনো পেনাল্টি মিস করার বিব্রতকর রেকর্ডের ভাগিদার হলো ব্রাজিল। গিমারায়েসের সেই দুর্বল এবং দিকভ্রান্ত শটটি কেবল নিল্যান্ডের গ্লাভসেই জমা হয়নি, বরং তা যেন ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তার কফিনে প্রথম পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল। এই একটি মিস পুরো ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভাইকিংদের গোল করতে হয়তো কিছুটা দেরি হয়েছিল, কিন্তু এই পেনাল্টি সেভের পর থেকেই তারা ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয়, আর ব্রাজিল ক্রমশ হারিয়ে ফেলতে থাকে তাদের চেনা ছন্দ।

বল পজিশনের লজ্জা

কার্লো আনচেলত্তির ডাগআউটে থাকা মানেই ট্যাকটিকাল মাস্টারক্লাস, ফুটবলীয় দাবা বোর্ডে কিস্তিমাত করার নিখুঁত পরিকল্পনা, চাতক পাখির মতো এমনটাই চেয়েছিল ব্রাজিল সমর্থকেরা। নরওয়ের দীর্ঘদেহী এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনের গতি শ্লথ করতে আনচেলত্তি শুরু থেকেই অফ দ্য বল মুভমেন্ট এবং উইংভিত্তিক আক্রমণের ওপর ভরসা করেছিলেন। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় সেই অতি-সতর্ক কৌশলই ব্রাজিলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। নরওয়ের ডাবল পিভটে থাকা স্যান্ডার বার্জ এবং প্যাট্রিক বার্গ, এই দুই মিডফিল্ডার মাঝমাঠের দখল নিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের রসদ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। তারা ব্রাজিলের মাঝমাঠের ক্রিয়েটিভ জোনটিকে স্রেফ অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।

আর সেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণমঞ্চের মূল পাপেট মাস্টার বা পুতুলনাচের কারিগর ছিলেন মার্টিন ওডেগার্ড। পুরো ম্যাচে ওডেগার্ড একাই ১০১টি সফল পাস দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বমানের রক্ষণব্যূহকে স্রেফ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন। ওডেগার্ডের জাদুকরী ভিশন এবং রক্ষণভেদী পাসিংয়ের সামনে ব্রাজিলের মাঝমাঠকে মনে হয়েছে চূড়ান্ত দিশাহারা এবং স্থবির। ফলে, পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজিশন বা বল দখল ছিল মোটে ৩৪ শতাংশ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গৌরবময় ফুটবল ইতিহাসে কখনোই এতটা বলহীন, অসহায় এবং ছন্নছাড়া রূপে দেখা যায়নি। ৬৬ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে নরওয়ে যেন মাঠের নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের একক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিল, আর সাম্বার প্রতিনিধিরা তখন কেবল বলের পেছনে ছুটে ক্লান্ত হচ্ছিলেন।

 বিশ্বকাপে প্রিমিয়ার লিগের দ্বৈরথ

এই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত এবং রোমাঞ্চকর উপাখ্যান ছিল আর্সেনালের তারকা ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস এবং ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হ্যালান্ডের দ্বৈরথ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেই চেনা বৈরিতা এবং দ্বিপাক্ষিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এবার রূপ নিয়েছিল বৈশ্বিক মঞ্চের জীবন-মরণ লড়াইয়ে। আর এই মহাদ্বৈরথে শেষ হাসি হাসলেন নরওয়ের নাম্বার নাইন। ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যাব্রিয়েল কড়া পাহারায় রেখেছিলেন হ্যালান্ডকে, কিন্তু একজন জাত স্ট্রাইকারকে ৯০ মিনিট বোতলবন্দি করে রাখা যে অসম্ভব, তা প্রমাণ করলেন এই সিটি তারকা।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে যখন দুই দলই অচলাবস্থা ভাঙতে মরিয়া, ঠিক তখনই নরওয়ের পক্ষ থেকে একটি মাপা ক্রস ভেসে আসে ব্রাজিলের ডি-বক্সে। গ্যাব্রিয়েলের চেয়ে শারীরিক গঠন ও উচ্চতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা হ্যালান্ড তাকে স্রেফ বাতাসে ভাসিয়ে পরাস্ত করেন এবং এক দুর্দান্ত, শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়ান। পুরো ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের বিপক্ষে ৪টি এরিয়াল ডুয়েল বা আকাশী লড়াইয়ের সবকটিতেই জিতেছেন হ্যালান্ড। এখানেই শেষ নয়, ৯০তম মিনিটে ব্রাজিলের ডিফেন্সের অলস প্রেসিং এবং বোঝাপড়ার অভাবের সুযোগ নিয়ে নিখুঁত ও ক্লিনিকাল ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হ্যালান্ড। এই দ্বিতীয় গোলটিই মূলত ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেয় এবং নিশ্চিত করে ভাইকিংদের ঐতিহাসিক জয়।

ফাইনাল থার্ডের বন্ধ্যাত্ব

ম্যাচের পর পরিসংখ্যানের খেরোখাতা ঘেটে দেখা যায়, ব্রাজিল পুরো ম্যাচে ১৪টি শট নিয়েছিল এবং নরওয়ে নিয়েছিল মাত্র ৯টি। কিন্তু এই শুষ্ক পরিসংখ্যান মাঠের আসল সত্যকে আড়াল করে রাখে। ব্রাজিলের আক্রমণগুলোর বেশিরভাগই ছিল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর, যেখানে দলগত পরিকল্পনার অভাব ছিল স্পষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে ম্যাথিউস কুনিয়াকে তুলে নেওয়ার পর প্রতিপক্ষের অর্ধে ব্রাজিলকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। ফাইনাল থার্ডে নরওয়ের পাসিং অ্যাকুরিসি যেখানে ছিল ৬৪.৭ শতাংশ, সেখানে ব্রাজিলের পাসিং অ্যাকুরিসি ছিল মোটে ৩৫ শতাংশ। এই আকাশ-পাতাল ব্যবধানই প্রমাণ করে ফাইনাল থার্ডে কতটা সৃজনশীলতার অভাব এবং ছটফটানি ছিল ব্রাজিলের আক্রমণভাগে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ট্যাকটিকাল পরিবর্তন এনেও সফল হয়নি ব্রাজিল। তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিকের একটি সহজ সুযোগ মিস করা ব্রাজিলের কপাল পুড়িয়েছে। এই তরুণ তুর্কি চাপের মুখে তার চেনা ক্ষিপ্রতা ও ফিনিশিং দক্ষতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। শুধু এন্ড্রিক কেন, নরওয়ের জমাট ও সুশৃঙ্খল ডিফেন্স লাইনে বিন্দুমাত্র চিড় ধরাতে পারেননি খোদ নেইমারও। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি কিংবা ভিনিসিয়াস জুনিয়র, যারা ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ঘুম হারাম করে দেন, তারাও এদিন নরওয়ের কড়া ট্যাকলিংয়ের সামনে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। ভাইকিংদের লড়াকু এবং সুশৃঙ্খল মানসিকতার সামনে সাম্বার ছন্দ হারিয়ে গিয়েছিল কোনো এক অজানা অতল গহ্বরে।

ডিফেন্সিভ ব্লান্ডার

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মূল মন্ত্র হলো, ‘তোমরা যদি তিনটি গোল করো, আমরা চারটি করব।’ কিন্তু আধুনিক ফুটবল ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন বা রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ছাড়া অচল, যা এই ম্যাচে হারে হারে টের পেয়েছে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটেই নরওয়ে এগিয়ে গিয়েছিল, তবে সোরলোথের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় সে যাত্রা বেঁচে যায় ব্রাজিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কান দেয়নি ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয় গোলের সময় হ্যালান্ডকে বক্সের ঠিক বাইরে যেভাবে শট নেওয়ার জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল, তা যেকোনো আন্তর্জাতিক মানের ডিফেন্সের জন্য চরম লজ্জাজনক। অপরদিকে ব্রাজিলের প্রতিটি আক্রমণকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করেছেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নিল্যান্ড।  ব্রাজিল ১৪টি শট নিলেও তার মধ্যে অন্তত ৫টি ছিল নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কিন্তু নিল্যান্ডের অসাধারণ পজিশনিং এবং অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সের কারণে বারবার বেঁচে গিয়েছে নরওয়ে। গোলপোস্টের নিচে এই নরওয়েজিয়ান প্রাচীরই দুই দলের মধ্যে আসল ব্যবধান গড়ে দিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তের সান্ত¡না

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নরওয়ে। রেফারি যখন ৭ মিনিট ইনজুরি টাইম বা অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করলেন, তখন ব্রাজিলের বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। গ্যালারিতে বসা হলুদ জার্সি পরিহিত দর্শকদের চোখ তখন অশ্রুসজল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এবার আর ভুল করেননি দলের অভিজ্ঞ কা-ারি নেইমার। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, গোলরক্ষককে ঘোল খাইয়ে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। এই গোলটি ব্রাজিলের পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে, কিন্তু বিদায়ের নির্মম ও নিষ্ঠুর সত্যকে বদলাতে পারেনি।  কিছুক্ষণ পরেই রেফারি বাজিয়ে দেন ম্যাচের শেষ বাঁশি।  সেই বাঁশির আওয়াজ যেন ছিল ব্রাজিলের ফুটবলীয় গৌরবের করুণ সমাপ্তি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে যায় ব্রাজিলের ফুটবল আকাশ। মাঠের ভেতরে নেইমার, ভিনিসিয়ুসদের স্তব্ধ হয়ে বসে যাওয়া আর গ্যালারিতে কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তের কান্নার রোল একাকার হয়ে যায়। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের সুশৃঙ্খল ফুটবল, ট্যাকটিকাল পরিপক্বতা এবং শারীরিক শ্রেষ্ঠত্বের সামনে ব্রাজিলের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফুটবল আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল। এই পরাজয় কেবল ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নয়, বরং ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যকে গভীর আত্মোপলব্ধির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল কি তবে ইউরোপীয় আধুনিক পাওয়ার ফুটবলের কাছে পুরোপুরি নতিস্বীকার করল? এই প্রশ্ন এখন তাড়া করে বেড়াবে ফুটবল বিশ্বকে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!