× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চৌগাছা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

বাবাকে হারিয়ে এবার মাকে বাঁচানোর লড়াই

চৌগাছা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

বাবাকে হারিয়ে এবার  মাকে বাঁচানোর লড়াই

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের যুবক সমর মজুমদারের জীবনে একের পর এক নেমে এসেছে বিপর্যয়। মাত্র ছয় মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার তার মা অর্চনা মজুমদারের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া তার বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নেই। তবে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে পরিবারটি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সমরের বাবা সাধন কুমার মজুমদার ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়া গৌরসুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর স্কুল থেকে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পলুয়া এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সাড়ে ১৯ বছর একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন সাধন কুমার মজুমদার। চাকরির বেতন চালু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তখন থেকেই অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবারটি।

এরই মধ্যে পরিবারের ওপর নেমে আসে নতুন দুর্যোগ। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই অর্চনা মজুমদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

পরিবার জানায়, প্রতিটি ডায়ালাইসিসের সঙ্গে ওষুধ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সমর মজুমদার বলেন, ‘বাবা ছিলেন আমাদের পরিবারের ছায়া। তাকে হারানোর পর অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এখন মায়ের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। মায়ের কষ্ট দেখে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। বর্তমানে মায়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। মানবিক কারণে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সামান্য সহযোগিতাও একজন অসুস্থ মায়ের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।’

মায়ের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন সমর মজুমদার। তিনি জানান, অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবিক সহায়তা পেলে তার মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সমর মজুমদারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭৮৪-৩৬৪৪২৮ খোলা রয়েছে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!