ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আলোচনায় আসা গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে প্রশাসন। গাছটিকে কেন্দ্র করে কুসংস্কার, অলৌকিকতার প্রচার এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ওঠার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি অপসারণ করা হয়। আলোচিত এই গাছের মালিক বচিয়ারা গ্রামের প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে থাকা গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। পরে গাছটির ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর আরেকটি ঝড়ের মুখে ডালপালাবিহীন গাছের অবশিষ্ট কা-টি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গাছটিকে ‘অলৌকিক’ ঘটনা কিংবা ‘জিনের কাজ’ বলে এলাকায় গুজব ছড়ানো হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করতে থাকেন। কেউ কেউ সেখানে মানত করা, আগরবাতি ও মোমবাতি জ¦ালানো শুরু করেন; এমনকি অনেকে অলৌকিক ওষুধ মনে করে গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, গাছের নিচে লাল কাপড় বেঁধে স্থানটিকে মাজারসদৃশ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটির পেছনে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া বলেন, ‘গাছটির মাথার অংশ আগেই কাটা থাকায় ওপরের ওজন কমে গিয়েছিল। ফলে গোড়ার অংশ ভারী থাকায় মাটি ও শিকড়ের টানে কা-টি পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। এতে অলৌকিকতার কিছু নেই।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল এবং কুসংস্কার ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে এটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ স্থানীয় মসজিদ বা মাদ্রাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন