২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি এক সপ্তাহেরও কম সময়। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তবে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির চোট নিয়ে। অবশেষে বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে স্বস্তি দিয়ে মিলেছে এক দারুণ সুখবর। চোট কাটিয়ে প্রথমবারের মতো দলের বাকি সতীর্থদের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এলএমটেন।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে মেসিকে বেশ চনমনে মেজাজে দেখা গেছে। কানসাসের কম্পাস মিনারেলস সেন্টারে ছোট পরিসরের একটি প্রীতি ম্যাচ এবং ফুটবলারদের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী ‘রন্ডো’ অনুশীলনেও অংশ নেন তিনি। অনুশীলনের সময় সতীর্থদের সঙ্গে তাকে হাসি-ঠাট্টা ও খুনসুটিতে মাততেও দেখা যায়। এর আগে গত পরশু মেসি মাঠে এলেও দলের সঙ্গে অনুশীলন না করে এককভাবে বল নিয়ন্ত্রণ, গতি ও দিক পরিবর্তনের ব্যক্তিগত কসরত করেছিলেন। ধাপে ধাপে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত বৃহস্পতিবার তিনি সবার সঙ্গে অনুশীলনে নামেন।
মেসির এই ফিরে আসা আর্জেন্টিনার জন্য ভীষণ স্বস্তির। কারণ, গত ২৪ মে মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় তিনি পায়ে ব্যথা অনুভব করায় মাঠ ছাড়ার অনুরোধ করেছিলেন। এরপর থেকেই তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। তার আগে দলের সেরা তারকাকে চোটমুক্ত পাওয়া স্কালোনি শিবিরের জন্য বড় বুস্টার ডজ।
অবশ্য শুধু মেসিই নন, আর্জেন্টিনা দলে হালকা চোটের একটি ছোটখাটো তালিকা রয়েছে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, গনসালো মন্তিয়েল, নাহুয়েল মোলিনা, নিকোলাস পাস এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের মতো তারকারা বিভিন্ন ছোটখাটো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এএফএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চোটে আক্রান্ত খেলোয়াড়েরা নির্ধারিত চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্তোষজনকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে খেলোয়াড়দের সুরক্ষিত রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতাই নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনা দল গতকাল শুক্রবার কানসাস সিটি থেকে দুই ঘণ্টার বিমানযাত্রায় কলেজ স্টেশনে পৌঁছানোর কথা। সেখানে এলিস পার্কে অনুশীলনের পাশাপাশি মার্কিন মুলুকে নিজেদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের। গ্রুপ ‘এ’তে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে মূল বিশ্বকাপ শুরুর আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন