(শেষ পর্ব)
পিটুপি (চ২চ/সেন্ড মানি) সম্পূর্ণ ফ্রি করা
সাধারণ মানুষ যখন একে অপরকে আপৎকালীন টাকা পাঠায়, সেখানে মাসে একটি নির্দিষ্ট সীমা (যেমন ২০,০০০ টাকা) পর্যন্ত কোনো চার্জ বা ‘প্রিয় নাম্বার’ এর শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ ফ্রি ঘোষণা করতে হবে।
মার্চেন্ট ডিসকাউন্টের স্বচ্ছতা
বিকাশ বা অন্য কোনো এমএফএস যখন ব্র্যান্ড শপের সঙ্গে চুক্তি করবে, তখন নীতিমালায় থাকতে হবে যে তারা নিজস্ব কমিশন থেকেও গ্রাহকদের একটি অংশ ক্যাশব্যাক দেবে, যা কেবল নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড শপের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মুদি দোকান বা ইউটিলিটি বিল (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
‘ডিজিটাল ব্যাংক’ বনাম ‘এমএফএস’ প্রতিযোগিতা
ডিজিটাল ব্যাংকগুলো যখন বাজারে পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে, তখন তারা মোবাইলের মাধ্যমেই লেনদেন করাবে এবং জমানো টাকার ওপর সরাসরি সুদ/মুনাফা দেবে। এর ফলে বিকাশসহ অন্যান্য এমএফএস কোম্পানিগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং গ্রাহকদের ধরে রাখতে তারা তখন বাধ্য হয়েই জমানো টাকার ওপর প্রত্যক্ষ সুবিধা বা ইনসেন্টিভ প্রদান করবে।
সর্বোচ্চ লিমিট ট্রানজেকশনে সম্পূর্ণ ফ্রি সুবিধা
বর্তমান নীতিমালায় লেনদেনের সর্বোচ্চ দৈনিক ও মাসিক লিমিট বেঁধে দেওয়া আছে শুধু সুরক্ষার জন্য। নতুন নীতিমালায় একটি ‘ফ্রি ট্রানজেকশন লিমিট’ যোগ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো সাধারণ বা প্রান্তিক গ্রাহক যদি মাসে মোট ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেন, তবে তার কাছ থেকে কোনো প্রকার চার্জ নেওয়া যাবে না।
এটি হবে সম্পূর্ণ ফ্রি। ২০,০০০ টাকার বেশি বাণিজ্যিক বা বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে নামমাত্র চার্জ প্রযোজ্য হবে।
যেকোনো অপারেটরে সম্পূর্ণ ফ্রি সেন্ড মানি
বর্তমানে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (যেমন বিকাশ থেকে নগদ) টাকা পাঠাতে গেলে গ্রাহককে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হয়। ক্যাশলেস সোসাইটির স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এক ওয়ালেট থেকে অন্য ওয়ালেটে টাকা পাঠানো আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রি করতে হবে, যাতে অপারেটরের দেয়াল গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির কারণ না হয়।
সুপ্ত অ্যাকাউন্টের টাকা স্বয়ংক্রিয় স্থানান্তরের আইনি বাধ্যবাধকতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় সংশোধন এনে বন্ধ বা সুপ্ত অ্যাকাউন্টে অলস পড়ে থাকা গ্রাহকের আমানত সুরক্ষায় কড়া নিয়ম করতে হবে।
নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এই টাকা ব্যাংক বা কোম্পানি নিজেদের রেভিনিউতে নিতে পারবে না; স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কেন্দ্রীয় গ্রাহক কল্যাণ তহবিলে জমা হতে হবে অথবা সহজ ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে।
নমিনি ডেটাবেজ সহজীকরণ ও ডিজিটাল উত্তরাধিকার নীতি
গঋঝ অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো বাধ্যতামূলক এবং সহজ উপায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল নমিনি বা উত্তরাধিকারী যুক্ত করার অপশন অ্যাপে থাকতে হবে। গ্রাহকের মৃত্যুর পর নমিনি যেন কেবল ওটিপি বা ডিজিটাল ডেথ সার্টিফিকেট আপলোড করেই কোনো ধরনের টেবিল-হয়রানি ছাড়া তাৎক্ষণিক টাকা তুলতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় নীতিমালা তৈরি করা আবশ্যক।
ন্যানো লোনের কার্যকর সুদের হার নির্ধারণ ও প্রসেসিং ফিতে ক্যাপ
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া ডিজিটাল মাইক্রো-ক্রেডিট বা ন্যানো লোনের ক্ষেত্রে লুকানো প্রসেসিং ফি এবং সার্ভিস (ঝবৎারপব) চার্জ অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিতে হবে যে, সব খরচ মিলিয়ে ‘কার্যকর সুদের হার’ কোনোভাবেই যেন সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে বেশি না হয় এবং ঋণের শর্ত সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও স্বচ্ছ বাংলায় অ্যাপে প্রদর্শন করতে হবে।
বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং খাতটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং শোষণমূলক কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকার পুঁজিতে কোম্পানিগুলো ব্যবসা ফাঁদছে, অথচ সাধারণ গ্রাহক তার নিজের টাকা স্থানান্তর করতে গিয়ে প্রতি পদে পদে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন এনে একে ‘কোম্পানিবান্ধব’ থেকে ‘গ্রাহকবান্ধব’ অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন