× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

খাতসংশ্লিষ্টদের সতর্কতা

চামড়াশিল্পে ক্রেতা হারাচ্ছে বাংলাদেশ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

চামড়াশিল্পে ক্রেতা হারাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত চামড়াশিল্প দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত অবহেলা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও পরিবেশগত মান অনুবর্তিতার সংকটে পিছিয়ে পড়ছে বলে মত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা। তারা বলেছেন, প্রায় ৮০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে?’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ এবং জেনি স্যুজের চেয়ারম্যান নাসির খান।

আলোচনায় সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, একসময় বাংলাদেশের চামড়াশিল্প ঘিরে যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন পরিবেশগত মান পূরণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে সিবিএএমের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পরিবেশগত মান পূরণের বিকল্প নেই।

চামড়াশিল্প নগরীর অবকাঠামোগত সংকট তুলে ধরে বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই সুবিধাগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমেছে। আমরা ক্রেতা হারিয়েছি, ক্ষতির মুখে পড়েছে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও। জেনি স্যুজের চেয়ারম্যান নাসির খান বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত বর্তমানে জটিল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, করসংক্রান্ত হয়রানি, অকার্যকর প্রণোদনাকাঠামো এবং সীমিত মূল্য সংযোজনের মতো চারটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেখানে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো কার্যকর নীতিগত সংস্কার করতে পারেনি। করব্যবস্থার জটিলতার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডও বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহ হারাচ্ছে। চামড়া অপচয় রোধে জরুরি উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, সংরক্ষণ ও সংগ্রহব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে। তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে চামড়ার অপচয় অন্তত ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনার দায়িত্ব বিসিকের পরিবর্তে বিডা বা বেপজার মতো দক্ষ প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি আরও বলেন, চামড়াশিল্পের টিকে থাকার জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ, প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং একটি সমন্বিত সেক্টর ট্রান্সফরমেশন পরিকল্পনা প্রয়োজন।

কোরবানির ঈদের সময় চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতার অভাবের সমালোচনা করে মোছাদ্দেকুল হক বলেন, জবাইয়ের পরপরই চামড়ায় লবণ প্রয়োগ করলে গুণগত মান বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চামড়াশিল্পের সংকট কেবল পরিবেশগত নয়, এটি অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পনীতির সমন্বিত চ্যালেঞ্জ। হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশদূষণ কমানো, কিন্তু বাস্তবে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীÑ দুই নদীই দূষণের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি ভালো উদ্দেশ্য সব সময় ভালো ফল বয়ে আনে না। তাই পরিবেশ, অর্থনীতি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে। বক্তারা মনে করেন, চামড়াশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে পরিবেশগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার, অর্থায়ন সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জরুরি।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!