× UCB Sticker Card
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

সম্পাদকীয়

বায়ুদূষণ রোধ কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

বায়ুদূষণ রোধ কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই

বাংলাদেশ আজ এমন এক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যা নিঃশব্দে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বায়ুদূষণ এখন আর কেবল পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন যে বাতাস মানুষ শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছে, সেই বাতাসই ধীরে ধীরে মৃত্যুর বার্তা বয়ে আনছে, এ বাস্তবতা যতটা ভয়াবহ, তার চেয়েও উদ্বেগজনক হলোÑ সমস্যাটির দীর্ঘস্থায়ী অবহেলা।

সাম্প্রতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যানগুলো পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে দেশে এক লাখেরও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে, যার মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে। লাখ লাখ গর্ভবতী নারী অকাল প্রসবের শিকার হচ্ছেন, জন্ম নিচ্ছে কম ওজনের শিশু। শুধু স্বাস্থ্যগত ক্ষতিই নয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং অসুস্থতার কারণে বছরে হারিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি কর্মঘণ্টা। অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবও বিপুল।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দূষণের প্রধান উৎসগুলোর অনেকগুলোই চিহ্নিত এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য। অবৈধ ইটভাটা, পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো এবং পরিবেশগত মানদ- না মেনে পরিচালিত শিল্পকারখানাÑ এসব বহুদিন ধরেই পরিচিত সমস্যা। তবু এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান সাফল্য খুবই সীমিত।

বিশেষ করে পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি এবং নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠা এসব গোপন কারখানা শুধু বায়ুদূষণই নয়, মাটি ও পানিদূষণেরও ভয়াবহ উৎসে পরিণত হয়েছে। সিসা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত একটি উপাদান। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করে, স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

অবৈধ ইটভাটার প্রসঙ্গও নতুন নয়। পরিবেশ আদালতের নির্দেশনা, উচ্চ আদালতের রায় এবং সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও হাজার হাজার অবৈধ ইটভাটা এখনো সক্রিয়। এসব ইটভাটা শুধু বায়ুমান নষ্ট করছে না, কৃষিজমি ধ্বংস এবং বন উজাড়েরও কারণ হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর ধরে চিহ্নিত এসব অবৈধ স্থাপনা কেন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না? আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বায়ুদূষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলোÑ আন্তঃসীমান্ত দূষণ। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতকালে দূষিত বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যা দেশের নিজস্ব দূষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। তবে আন্তঃসীমান্ত দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অথচ দূষণ সৃষ্টিকারী কর্মকা-ের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজধানী থেকে জেলা শহর, শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রাম, সর্বত্র মানুষ দূষিত বাতাসের শিকার হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে নাগরিকের বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকারের অংশ হওয়া উচিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই অধিকার আজ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে।

বায়ুদূষণ এমন একটি সংকট, যার ক্ষতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়, কিন্তু একসময় তা অপূরণীয় হয়ে ওঠে। আজকের শিশুদের ফুসফুস, আগামী দিনের কৃষি উৎপাদন, দেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য, সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। তাই এই সংকটকে আর কোনোভাবেই গৌণ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উন্নয়নের সুউচ্চ ভবন, নতুন সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান তখনই অর্থবহ হবে, যখন নাগরিকরা অন্তত নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পারবে। অন্যথায় উন্নয়নের অর্জনও বিষাক্ত ধোঁয়ার আড়ালে হারিয়ে যাবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!