× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:১৩ এএম

বাজেট ২০২৬-২০২৭

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরীক্ষা 

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:১৩ এএম

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরীক্ষা 

দীর্ঘ দেড় যুগের পুঞ্জীভূত সংকট আর টানাপোড়েনে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটাই ভঙ্গুর। মোটাদাগে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্বকাঠামো, ব্যাংক খাতের অনিয়ম এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মতো বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলা করছে দেশ। অর্থনীতির এই বহুমুখী সংকটের মধ্যেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এই বাজেট শুধু নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই নয়, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও প্রথম বড় পরীক্ষা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’Ñ এমন সম্ভাব্য প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থের জোগান দিতে প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা পূরণে বিদেশি উৎস ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। বাজেটে জিডিপির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে আটকে রাখতে চান অর্থমন্ত্রী। এবারের বাজেটের অন্যতম দিক হতে পারে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিস্তার। এডিপির আকার বেড়ে দেড় গুণ হচ্ছে। বড় বরাদ্দ থাকছে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে। বাজেটে ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। এবারের বাজেটে শুধু ঘাটতি পূরণের প্রথাগত হিসাব নয়, বরং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে স্থবির হয়ে পড়া বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। খাদের কিনারে পৌঁছানো অর্থনীতিকে টেনে তুলতে এই বাজেটকে একটি বড় ঢাল হিসাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য চারটি। এগুলো হচ্ছেÑ অর্থনীতিকে পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। অর্থমন্ত্রী নিজেই সম্প্রতি সচিবালয়ে বলেছেন, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই বড় বাজেট করতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সরকারের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে সংস্কারের চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক সংকট। এবারের বাজেটে প্রবৃদ্ধির চেয়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েক বছর ধরে দেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সমস্যা মূল্যস্ফীতি। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত দুই মাসের মধ্যে অকটেন, পেট্রলসহ জ¦ালানি তেলের দাম দুই দফায় বেড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে আবারও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আতঙ্ক ভর করেছে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে। সর্বশেষ গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জোরালো চাপ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি এনবিআরকে ভেবে দেখতে বলেছিলেন। কিন্তু করদাতা হারানোর ভয়ে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে করমুক্ত আয়সীমা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো হয়নি। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে তারেক রহমানের সরকার। চলতি বাজেট ঘোষণার সময়েই সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন বলেছিলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হবে করমুক্ত আয়সীমা। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্যও ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার্য করছেন। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার্য করেন।

এ ছাড়া আগামী দুই অর্থবছরের করমুক্ত আয়সীমা নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে (২০২৪) আহত ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ৫ লাখ টাকা। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য ৫ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৬ লাখ টাকা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য বিদ্যমান হিসাব থেকে কোনো সন্তান বা পোষ্য সন্তান প্রতিবন্ধী হলে পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হলে যেকোনো একজন এই সুবিধা পাবেন।

বাজেটের আকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই বাজেট বাস্তবায়নের বড় অংশই নির্ভর করছে ঋণের ওপর। সরকারের মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করে দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ জোগাড় করতে সরকারকে দেশীয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাজেটের আকার নয়, বাস্তবায়ন সক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো প্রকল্প শেষ হচ্ছে কি না, প্রকল্প ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটুকু এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি নাÑ সেসব বিষয় অবশ্যই দেখতে হবে।

করব্যবস্থা

চলতি অর্থবছরে রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতিতে আছে এনবিআর। গত ১১ মাসে ঘাটতি বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে আদায় করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট থেকে আদায়ের চাপ বাড়ানো হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। আসছে অর্থবছরে ভ্যাটের আওতায় মোট ২০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে আনতে হিসাব কষা হয়েছে। ছোট দোকানদারদেরও আগামীতে ছাড় দেওয়া হবে না। হিসাব কষে বছরে ১ হাজার টাকা করে এক অর্থবছরে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, আগামী বাজেটে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। কারণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ছোট দোকানদারেরা বেশির ভাগ মফস্বল এলাকার, যেখানে কোনো ভ্যাট অফিস নেই। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে বড় মাপের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায়ে চাপ বাড়াতে হবে। কিন্তু সরকার সেদিকে না গিয়ে ছোটদের ভ্যাটের আওতায় আনছে। ভ্যাট পরিশোধে চাপ দওয়া হলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তারেক রহমানের সরকার সারচার্জ বহাল রাখছে। অতিরিক্ত সম্পদ থাকার কারণে ২০২৮-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে নিয়মিত করের বাইরে আরও ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আগামী অর্থবছরের জন্য করপোরেট করহার কমানো হচ্ছে না। আগামী বাজেটও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষিপণ্যে উৎসে কর বহাল থাকছে। করের জালের আওতা বাড়ানো হবে। তবে চ্যালেঞ্জের এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ছাড় দেওয়া হবে। বিশেষ করে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হবে। সব স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে উৎসে করে ছাড় থাকবে।  

অর্থায়ন

সরকারের নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ লাখ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাবে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি ৬.৫, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ 

২০২৬-২৭ বাজেটের খসড়া নথির তথ্যানুযায়ী আসন্ন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ শতাংশের কম। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে। এমন প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের রেকর্ড পরিকল্পনা

বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় কমাচ্ছে না সরকার। আগামী অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ৩ লাখ কোটি টাকার ব্যয় মেটাতে ঋণের লক্ষ্য থাকছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পরিবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির চাপ আছে। সে কারণে বেড়েছে এডিপির আকার। তাদের মতে, এত বড় উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন সক্ষমতা নেই সরকারের। যদিও অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, নানামুখী সংস্কার ও তদারকিতে বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অগ্রাধিকার

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নতুন বাজেটে এ খাতে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং বিভিন্ন নগদ সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হতে পারে। এসব কর্মসূচি নি¤œ আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াবে বলে সরকার মনে করছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে দারিদ্র্য কমাতে হলে শুধু ভাতা নয়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!