বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অরেঞ্জ ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংস্থা ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স)। একই সঙ্গে দেশে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা ও বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পুঁজি আকর্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অরেঞ্জ ইকোনমি সামিট ২০২৬ : ঢাকা’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
সামিটে আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক দুররীন শাহনাজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বাজার গড়ে তোলা জরুরি। তৈরি পোশাক, কৃষি, জ্বালানি রূপান্তর ও আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, আইআইএক্সের এক বিলিয়ন ডলারের ‘অরেঞ্জ ক্লাইমেট ফান্ড’-এর আওতায় বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। গত এক দশকে সংস্থাটি বাংলাদেশে ১৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু সহনশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ডিএসই টেকসই অর্থায়ন, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং আন্তর্জাতিক মানদ- বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অরেঞ্জ অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম নির্মাণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল একটি উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি বলেন, অরেঞ্জ বন্ডের মতো উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ জলবায়ু সহনশীলতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি সাজিদা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের প্রথম অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ড ইস্যুকে পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন ডলারের অরেঞ্জ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। সামিটে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ছাড়া উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন