সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানই লাভের জন্য নয়; সভ্যতার এই পর্বে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকতেই পারে, যা জনকল্যাণের জন্য। আমরা মনে করি, গণমাধ্যম জগতে শিল্প উদ্যোক্তারা সৎভাবে যেন এগিয়ে আসতে পারেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন জহির উদ্দিন স্বপন। সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্র অন্যান্য মুনাফাভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যেভাবে দেখে, আমাদের সরকার নিশ্চয়ই এ ধরনের শিল্প উদ্যোগ তাদের সেই দৃষ্টিতে দেখবে না। আপনারা জানেন, উদ্ভাবনী শিল্প পৃথিবীতে যেখানে যেখানেই আছে, সেখানেই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তা চলে না।
তথ্যমন্ত্রী থাকেন, সৃষ্টিশীলতা এবং প্রতিভা চর্চা যারাই করেন, তাদের কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার হয়। কারণ এ ধরনের প্রতিভাকে পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে সভ্যতা নতুন পথ খুঁজে পায় না। গণমাধ্যম জগৎ সেরকম একটা জগৎ।
রাষ্ট্র আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে চোখ রাঙিয়ে কথা বললেও এখন সহযোগী অংশীদারে পরিণত হতে চায় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেবলই সমস্যার আলাপের মধ্যে নিজেদের আটকে রাখলে চলবে না; সমস্যার যে নতুন চেহারা ধারণ করেছে, সেই নতুন চেহারাকেও আমাদের কিন্তু উপলব্ধি করতে হবে, অনুভব করতে হবে এবং তার সমাধানকে উদ্ভাবন করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম নিয়ে যখন কথা বলতে হয়, তখন অতীতে এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের সামনে থাকা উচিত। এমনকি আমরাও যখন নতুন কোনো পরিকল্পনা চিন্তা করব, তখন আমরাও যাতে অতীতের এই সমস্ত ভাইরাসে আক্রান্ত না থাকি, সে কারণেও আমাদের অতীতের ফ্যাসিবাদকে বারবার পাঠ করা দরকার।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা দরকার বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম বিষয়ে কেবল তথ্য মন্ত্রণালয় অথবা তথ্যমন্ত্রীর ওপরে ছেড়ে না দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসংক্রান্ত যে প্রতিশ্রুতি, সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা দরকার তথ্য মন্ত্রণালয় অথবা তথ্যমন্ত্রীকে গাইড করার জন্য। কারণ এটা কিন্তু কোনো উন্নয়নের মন্ত্রণালয় নয় যে কত বাজেট পেলাম, আর সেই বাজেট সঠিকভাবে খরচ করলাম কি না। এটা কিন্তু বেশির ভাগটাই পুরোটাই নীতিসংশ্লিষ্ট একটা মন্ত্রণালয়, যেই নীতি গণমাধ্যমকে একটা দায়িত্বশীল জায়গায় নিয়ে দাঁড় করবে।
ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন