জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা। গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সরকারি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে বই পরিমার্জনা, নতুন একাধিক বইয়ের অন্তর্ভুক্তি, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া ও ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর প্রস্তুতি নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে এনসিটিবি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের মেধাবী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের মেধা ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে এনসিটিবি সকল চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হবে বলে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্টরা। রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় শিক্ষাক্রম, নতুন বই ও বিনামূল্যে বই বিতরণ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন নতুন চেয়ারম্যানÑ
দেশে শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নে এনসিটিবি অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই এনসিটিবির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন বরাবরই চ্যালেঞ্জিং। এনসিটিবির কাজে যেহেতু অনেক মানুষের সংশ্লিষ্টতা, তাই ভালো-মন্দের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে কী ভাবছেনÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস শেষের কবিতা থেকে ‘মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া’র উদ্ধৃতি দিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আর তা মেনেই কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন ‘এনসিটিবিতে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের কাজ স্লিপলেস বা অহোরাত্র পরিশ্রমের। এটি জেনে-বুঝেই এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
পরিমার্জনার অংশ হিসেবে মাধ্যমিকের বিভিন্ন বইয়ে ১৫ হাজার ভুল চিহ্নিত করা হয়েছে, তারপর সেসব ভুল সংশোধনের জন্য তিনদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে সব পরিমার্জন শেষ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধূলা ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে দুটি বিষয় যুক্ত হচ্ছে।’ ইতিহাস বইয়ে পরিমার্জনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ছিল একটাই ইতিহাস, আমরা এমন চাই না। সম্পূর্ণ নির্মোহ থেকে ইতিহাস রচনা করা হবে। ইতিহাসে যার যেমন ভূমিকা ঠিক তেমনই উল্লেখ থাকবে।’ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ইতিহাস বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান।
কোনো শিক্ষাবর্ষেই নির্দিষ্ট সময়ে বই বিতরণ না হওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বই বিতরণের সময়কালকে ১৫ বছর, দেড় বছর ও ৬ মাসÑ তিন ভাগে ভাগ করা দরকার।’ ‘বিগত বছরগুলোতে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে যে বিলম্ব দেখা যেত, এবার তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের প্রস্তুতির বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। জুনের মধ্যে বাকিগুলোও শেষ করা হবে। শিগগিরই এসব টেন্ডার ওপেন করে মূল্যায়নসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। আগস্টে শুরু করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে বই দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে’ বলে জানান তিনি। চেয়ারম্যান জানান, বার্ষিক পরীক্ষা শেষের আগেই শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন