× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

‘বই বিতরণ কর্মসূচির কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন’

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

‘বই বিতরণ কর্মসূচির  কাঠামোগত সংস্কার  প্রয়োজন’

প্রফেসর ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৩১ আগস্ট ২০২৪ এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিনামূল্যের পাঠ্যবই কর্মসূচি নিয়ে উঠে এসেছে তার ভাবনাÑ

দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি চলছে। এই উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিনামূল্যের পাঠ্যবই কর্মসূচি একটি ঐতিহাসিক গর্বের অর্জন। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনে বই পৌঁছে দেওয়া একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রমাণ। অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখনো এটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই দিক থেকে বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে।

এত সাফল্যের পরও প্রতিবছর বই বিতরণ নিয়ে অভিযোগ-অনিয়মের কথা কেন শোনা যায়?

সমস্যাটি মূলত কাঠামোগত। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এক জটিল প্রশাসনিক বাস্তবতায় দায়িত্ব পালনকালে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছিÑ পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো স্থায়ী কারিগরি জনবলের সীমাবদ্ধতা। এটি শুধু সংখ্যার ঘাটতি নয়, বরং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণের সংকট। ফলে বই প্রণয়ন, সম্পাদনা, ডিজাইন, মুদ্রণ ও বিতরণÑ সবকিছু অনেকাংশে অস্থায়ী বা প্রকল্পভিত্তিক জনবলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।

মাঠপর্যায়ে কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়?

আমি দেখেছি, সময়সূচির ছোটখাটো বিচ্যুতিও পুরো ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। কখনো পা-ুলিপি চূড়ান্ত হতে দেরি হয়, কখনো দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, আবার কখনো মুদ্রণ ও কাগজ সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। এর যেকোনো কারণেই শিক্ষার্থীর হাতে নির্দিষ্ট সময়ে বই পৌঁছানোর বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। 

বিনামূল্যের পাঠ্যবই কর্মসূচির একটি পরিকল্পিত কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব?

উত্তর : সমাধান হলো, একটি স্থায়ী, দক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক জনবল কাঠামো গড়ে তোলা। এটিকে টেকসই করতে হলে ব্যক্তিনির্ভরতা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে হবে। পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনাকে বছরভিত্তিক সংকট মোকাবিলা থেকে বের করে একটি পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডারভিত্তিক ব্যবস্থায় আনতে হবে। এ ছাড়া মাননিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং তথ্যভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণÑ এই তিনটি বিষয় শক্তিশালী করতে হবে। সার্বিকভাবে বলা যায়, দক্ষ ও স্থায়ী জনবল, সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা এবং কঠোর মাননিয়ন্ত্রণÑ এই চারটি ভিত্তির ওপর দাঁড়ালেই এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও সফলভাবে টিকে থাকবে।

পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিটাল বই এখন বাস্তব প্রয়োজন। মুদ্রিত বইয়ের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ থাকলে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় তা ব্যবহার করতে পারবে। সরবরাহ সংকটের সময়ও এটি বড় সহায়তা হবে।

ফ্যাসিস্ট আমলে এনসিটিবির অনিয়ম নিয়ে শে^তপত্র প্রকাশের একটি পরিকল্পনা ছিল। আবার দুদকের পাশাপাশি আপনিও স্বতন্ত্রভাবে ফ্যাসিস্ট আমলের অনিয়মের তদন্ত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কতটুকু করতে পেরেছেন?

উত্তর : দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি মনে করেছি, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের কার্যক্রমকে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শে^তপত্রে মূলত যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে ছিলÑ পাঠ্যবই মুদ্রণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা, দরপত্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, মুদ্রণ উপকরণের মাননিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের সম্ভাবনা।

সিন্ডিকেশনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বলতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান এই খাতে সক্রিয় থাকার কারণে বাজারে এক ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা, প্রকৃত সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজের মান ও অগ্রগতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

রূপালী বাংলাদেশকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রূপালী বাংলাদেশ ও সব পাঠকের প্রতি শুভকামনা রইল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!