২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন সারাদেশের শতভাগ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যের ৩১ কোটি পাঠ্যবই বিতরণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে বাকি শ্রেণিগুলোরও দরপত্র আহ্বান করা হবে।
কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ করার ছয় মাস পরও প্রেসগুলো ২০ শতাংশ বিল পায়নি। এতে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার পুরো প্রক্রিয়ায় বিঘœ সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্রের লটের সংখ্যা কমানোয় ক্ষোভ রয়েছে। মাঝারি ও ছোট অনেক প্রেস দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছে।
প্রেসের বিল সংকট সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। অন্যদিকে পারচেজ কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ীই লটের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠুপুস্তক) প্রফেসর আবু নাসের টুকু। অন্যদিকে পাঠ্যবই সরবরাহের পর নিয়ম অনুযায়ি বিল যাতে দ্রুত দেওয়া হয় সে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রেস মালিকরা।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে (প্রাক-প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ) ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৮ কপি বই ছাপানো হবে। এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৮৫ লাখ ১ হাজার ৫১৫ টাকা।
অন্যদিকে ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের প্রথম থেকে নবম শ্রেণির জন্য ২২ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ৯২৩ কপি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪৩ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৫১৫ টাকা।
এদিকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ষষ্ঠ পর্যন্ত সব শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে এনসিটিবি। ৭ম ও ৮ম শ্রেণির বই ছাপানোর দরপত্রও চলতি মাসেই আহ্বান করা হবে। কিন্তু চলতি বছরের প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ করা ৬৪ প্রেস তাদের বকেয়া ২০ শতাংশ বিল না পাওয়ায় বই ছাপার দরপত্রে অংশ নিতে সমস্যায় পড়বে। কারণ বকেয়া টাকা না পেলে প্রেস ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। উল্টো প্রেসগুলোর ঋণের ওপর সুদের বোঝা আরও বাড়বে। এ ছাড়া টেন্ডারে অংশ নিতে প্রেসগুলো ব্যাংক গ্যারান্টিও পাবে না। এতে বই বই ছাপার প্রক্রিয়ায় বিঘœ সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বই ছাপার দরপত্রে লটের সংখ্যা কমানোয় ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে অনেক প্রেসের। এসব প্রেসের দাবি, আগে প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে ৯৮টি লট ও ৪র্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৯৮টি লট মিলিয়ে মোট লট ছিল ১৯৬টি। এই লটগুলোর আলাদা শিডিউলে টেন্ডার হতো। এবার ১৯৬ লটকে কমিয়ে ১১০টি করে ৫টি শ্রেণিকে একটি শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত করে টেন্ডার করা হচ্ছে। একইভাবে ইবতেদায়িতে আগে ছিল ৫০টি লট, এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে ৩৬টি। দাখিলের লটে আগে কাগজের পরিমাণ ছিল ৮ থেকে ১২ হাজার রিম। এখন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার রিম। লট বড় হওয়ায় প্রাক্কলিত মূল্যও বেড়ে গেছে। এর ফলে এবারের দরপত্রে অংশ নিতে সাড়ে ৩ কোটি থেকে কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতার সনদের প্রয়োজন হবে, যা বেশির ভাগ প্রেসেরই নেই। এর ফলে ১৫ থেকে ২০টি প্রেসের কাছে পুরো বই ছাপার কাজ চলে যাবে বলে দাবি এসব প্রেসের।
প্রেসের বকেয়া বিলের সংকট সমাধানে চেষ্টা করছেন এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি। সংকট সমাধানে চেষ্টা করছি’।
অন্যদিকে লটের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর আবু নাসের টুকু বলেন, ‘এটা পারচেজ কমিটির নির্দেশনা। লটের সংখ্যা বেশি হলে পারচেজ কমিটিতে প্রশ্ন ওঠে। পারচেজ কমিটির উদ্বেগকে সম্মান জানিয়ে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় লটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। ছোট প্রেস যাতে অংশ নিতে পারে সেজন্য স্পেসিফিক এক্সপিরিয়েন্স কমানো হয়েছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন