টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের একমাত্র কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আমতলা গোদুর মোড় থেকে মরহুম তসলিম উদ্দিন আকন্দের বাড়ি হয়ে বাড়ইপাড়া ও যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। হাঁটুসমান কাদা-পানির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার শত শত মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিনেও রাস্তাটিতে ইটের সলিং বা পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে কাদা মাড়িয়েই যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মমিনপুর গ্রামের ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে থকথকে কাদায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও দুষ্কর। কাদার কারণে এ পথে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা বা ভ্যান ঢুকতে পারে না। ফলে জরুরি চিকিৎসায় রোগীদের কাঁধে করে সড়ক পার করতে হয় বলে জানান এলাকাবাসী।
মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরনবী সিহাব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগের কথা কেউ শুনছে না।’
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মমিনপুর এলাকায় প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সড়কের বেহাল দশার কারণে তারা সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। সামনে পাবলিক পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
মমিনপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তার কাদার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।’ গ্রামের ১২০ বছর বয়সি প্রবীণ বাসিন্দা মো. সামছুল হক আকন্দ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে অন্তত একটি পাকা রাস্তায় হেঁটে যেতে চাই। এটিই আমার শেষ ইচ্ছা।’ এ বিষয়ে যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, ‘ইউনিয়নে বেশকিছু কাঁচা রাস্তা রয়েছে। তবে মমিনপুরের এই রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি পাকাকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন