পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ৩১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে শুরু হওয়া নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পাঁচতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, কনসালটেন্ট ল্যাবরেটরি, লিফট, ইউএইচএফপিও কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, অক্সিজেন ভবন, গ্যারেজ কোয়ার্টার, সাবস্টেশন ও অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মূল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে একটি পুরোনো কোয়ার্টারে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু না হলে উপজেলার লাখো মানুষকে জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে নির্ভর করতে হবে, যা বাড়তি অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শাকিল হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও প্রায় ৭ কোটি টাকার বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের ওপি (অপারেশন প্ল্যান) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিল আটকে থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিনহা বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত স্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের ওপির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন করে ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে এবং নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্বের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন