ফরিদপুর শহরের একটি কওমি মাদ্রাসার ১৫ বছর বয়সি আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে (৪৬) ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার হেফজখানার আবাসিক ছাত্রী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেলে পরিচালক আশরাফ আলী স্ত্রী-সন্তানদের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই ছাত্রীকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ছাত্রীটি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। এরপর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার ব্যর্থ প্রচেষ্টা শেষে ঘটনার ১৭ দিন পর ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত গতকাল এ রায় দেন।
রায় সম্পর্কে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আদালত রায়ে জরিমানার ৭০ হাজার টাকা দ-প্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এই রায় সব কওমি মাদ্রাসা পরিচালক এবং অভিভাবকদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন