তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোটের কার্যক্রমের প্রশংসা করলেও রাশিয়া অভিযোগ করেছে, জোটটি এখনো সংঘাতের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলন শেষে ট্রাম্প বলেন, জোটটি আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছে এবং সদস্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়টি এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো উপলব্ধি করেছে। স্পেনের অবস্থানেরও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি তুরস্ককে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, সম্মেলনকে যতই ঐতিহাসিক হিসেবে তুলে ধরা হোক না কেন, জোটের মূল অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার দাবি, জোটটি এখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার নীতিতেই অটল রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার ভাষ্য, বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ডেনমার্কের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ আগের মতোই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও নতুন ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের অস্ত্রের স্বল্পতার কথাও স্বীকার করেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনের দাবি, তাদের দূরপাল্লার আকাশযান ঠেকাতে রাশিয়া উন্নত সংকেত বিঘœকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করছে এবং উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করারও চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনের পরও ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং উত্তর মেরু অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন