নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দায়িত্ব হারানো এই নেতাকে পুনরায় নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলে স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের নেতাকর্মীরা উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জালাল সরকারের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে তিনি আবার কমিটির দায়িত্বে ফিরে এলেও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৫ জুন নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপি নজরপুর ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরও জালাল সরকার নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা না করে তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে পারে এবং তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে গত ২১ জুন জালাল সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভে এসে তার বাবা জালাল সরকার ও চাচা হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দল কখনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা বিতর্কিত কাউকে প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অর্থ বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে পদ পাওয়ার সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে, জালাল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ ছেলের ফেসবুক লাইভের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আমার ছেলেকে মাদক সেবন করিয়ে ওই লাইভ করানো হয়েছে। গত তিন মাস ধরে সে আমার সঙ্গে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’
স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের নেতাকর্মীর দাবি, দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন