× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:১০ এএম

ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে স্পেনের ফাইনাল যাত্রা

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:১০ এএম

ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে  স্পেনের ফাইনাল যাত্রা

বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোয়, ততই বাড়তে থাকে হিসাব-নিকাশ। কোন দল ফাইনালে উঠবে, কার হাতে উঠবে ট্রফি এসব নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে সেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফ্রান্স। শক্তিশালী স্কোয়াড, অভিজ্ঞ কোচ, তারকাখচিত আক্রমণভাগ এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই ফ্রান্স ছিল সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল।

গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে তারা। রক্ষণে দৃঢ়তা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে গতির সমন্বয় ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দলে পরিণত করেছিল। তাই সেমিফাইনালের আগে বেশির ভাগ বিশ্লেষণেই ফ্রান্সের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি ধরা হচ্ছিল।

স্পেন বদলে দিল ম্যাচের চিত্র

কিন্তু ফুটবল কখনোই কাগজের হিসাব মেনে চলে না। মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে স্পেন দেখিয়ে দিল, বড় ম্যাচ জিততে শুধু তারকার সমাহার নয়, দরকার শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং দলগত বোঝাপড়া।

শুরু থেকেই স্পেন বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে। ছোট ছোট পাস, দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষের ওপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে তারা ফ্রান্সকে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতেই দেয়নি। মাঝমাঠে স্পেনের আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে ফ্রান্সকে বেশির ভাগ সময়ই রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে হয়েছে।

প্রথমার্ধে স্পেন একটি পেনাল্টি পায়। সেই সুযোগ থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ফ্রান্স আক্রমণের গতি বাড়ালেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় সমতা ফেরাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির একটি আক্রমণ থেকে পেদ্রো পোরো দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর ম্যাচের বাকি সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফ্রান্সকে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি স্পেন।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এদিন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও স্পেনের রক্ষণভাগ দলগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ম্যাচটি প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে দলগত সমন্বয়, কার্যকর কৌশল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

তারকাদের দিনে জ্বলে উঠল দলগত ফুটবল

এই ম্যাচে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের দলগত সমন্বয়। লামিন ইয়ামালের গতি, দানি ওলমোর সৃজনশীলতা, ফাবিয়ান রুইজের বল নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা সবকিছু মিলিয়ে তারা ছিল একটি পরিপূর্ণ ইউনিট।

গোলরক্ষক উনাই সিমনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন। অন্যদিকে রক্ষণভাগ এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারায়নি। ফলে এমবাপ্পে কিংবা দেম্বেলের মতো তারকারাও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেননি।

স্পেনের ফুটবল দর্শন বরাবরই দলগত সমন্বয়কে গুরুত্ব দেয়। এই সেমিফাইনাল সেই দর্শনের আরেকটি সফল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ফ্রান্সের হতাশার কারণ কোথায়?

ফ্রান্সের বিদায়কে শুধু একটি হার বললে ভুল হবে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ছিল অন্যতম ধারাবাহিক দল। কিন্তু সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্যই দিতে হয়েছে।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্ব পর্যন্ত তাদের আক্রমণ এবং দলগত সমন্বয় ছিল প্রশংসনীয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারদের নিয়ে গড়া দলটিকে অনেকেই ফাইনালের নিশ্চিত দাবিদার মনে করেছিলেন। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে সেই ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেনি দিদিয়ে দেশমের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে। দ্রুত পাসিং, কার্যকর প্রেসিং এবং সংগঠিত ফুটবলের কারণে ফ্রান্স নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। বিশেষ করে মাঝমাঠে বারবার বল হারানোর কারণে আক্রমণভাগে ঠিকমতো বল পৌঁছায়নি। ফলে এমবাপ্পে ও দেম্বেলেরা নিজেদের গতিকে কাজে লাগানোর সুযোগই পাননি।

ফ্রান্সের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ে ছিল ভুল। অন্যদিকে স্পেন খুব বেশি সুযোগ না পেলেও যেগুলো পেয়েছে, সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে

লাগিয়েছে। বড় ম্যাচে এই কার্যকারিতাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।

রক্ষণেও ফ্রান্স প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে গিয়ে তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এতে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয় এবং স্পেন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল করে। এরপর ম্যাচে ফিরে আসা ফ্রান্সের জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।

মানসিক দিক থেকেও স্পেন এগিয়ে ছিল। গোল করার পর তারা ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স দ্রুত ম্যাচে ফিরতে গিয়ে কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে। তাড়াহুড়ো করে আক্রমণে ওঠার কারণে পাসিংয়ের ছন্দ নষ্ট হয় এবং ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায়। স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ় পারফরম্যান্সও ফ্রান্সের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই হার অবশ্য ফ্রান্সের পুরো টুর্নামেন্টের সাফল্যকে মুছে দেয় না। তারা এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং পুরো বিশ্বকাপজুড়ে উচ্চমানের ফুটবল খেলেছে। তবে সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে স্পেন ছিল কৌশলগতভাবে বেশি পরিণত, সুযোগ কাজে লাগাতে বেশি দক্ষ এবং মানসিকভাবে আরও প্রস্তুত। ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও একটি ম্যাচের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লিখে দেয়। সেই ইতিহাসে এবার জায়গা করে নিয়েছে স্পেন, আর ফ্রান্সকে ফিরে যেতে হয়েছে অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে।

প্রত্যাবর্তনের আরেক নাম স্পেন

এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই স্পেনকে ঘিরে প্রশ্ন ছিল। তরুণদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার অভাব এসব নিয়ে অনেক সমালোচনা ছিল। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পেন ততই নিজেদের বদলে নিয়েছে। রাউন্ড অব ১৬-তে পর্তুগালকে হারানো, কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে বিদায় করা এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানো প্রতিটি ম্যাচে স্পেন আরও আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে, ধারাবাহিক উন্নতি এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব।

এই সাফল্যের পেছনে শুধু একজন খেলোয়াড় নন, পুরো দলের অবদান রয়েছে। এ কারণেই স্পেনকে অনেকেই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন প্রমাণ করেছে, বড় ম্যাচ জিততে শুধু তারকা নয়, দরকার দলগত ফুটবল। শুরু থেকেই বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত পাসিংয়ে তারা ফ্রান্সকে চাপে রাখে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। অন্যদিকে এমবাপ্পেদের আক্রমণভাগকে দুর্দান্ত রক্ষণে আটকে রাখেন স্পেনের ডিফেন্ডাররা, আর গোলরক্ষক উনাই সিমন করেন গুরুত্বপূর্ণ সেভ। পুরো ম্যাচে কৌশল, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই ২-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করেছে লা রোজারা।

ফাইনালের আগে বড় চমক

স্পেনের এই জয় শুধু ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, এটি আধুনিক ফুটবলের একটি অস্বাভাবিক চমক। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে হলে দরকার দলগত শৃঙ্খলা, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের সমান অবদান; এই চমকই দেখিয়েছে স্পেন। ফ্রান্স হয়তো এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ছিল, কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেন ছিল আরও বেশি প্রস্তুত, আরও বেশি কার্যকর। তাই শেষ হাসিটাও হেসেছে তারাই। এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ অপেক্ষা করছে স্পেনের জন্য। আর ফ্রান্সকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে।

তবে এই সেমিফাইনাল বহুদিন মনে থাকবে একটি কারণে ফুটবল আবারও প্রমাণ করেছে, বড় নাম নয়, বড় দিনে যে দল সেরা ফুটবল খেলতে পারে, শেষ পর্যন্ত বিজয় তারই হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!