তীব্র গরমের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতি যখন প্রাণান্ত, তখনই হলুদ রঙের ঝরনা নিয়ে হাজির হয় সোনালু ফুল। গ্রীষ্মের এই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশে ফুটে থাকা সোনালু ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পথিকের নজর কাড়ছে। কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলতে থাকা থোকা থোকা এই ফুল যেন প্রকৃতিতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে।
সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল বা অমলতাসÑ বিভিন্ন নামে পরিচিত এই বৃক্ষটি আট থেকে নয় মিটার উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরুতেই এর শাখা-প্রশাখা উজ্জ্বল হলুদ ফুলে ভরে ওঠে, যা দূর থেকে অনেকটা ঝাড় লণ্ঠনের মতো দেখায়। ফুল ঝরে যাওয়ার পর কচি সবুজ পাতায় নতুন রূপ পায় গাছটি। সোনালুর ফলগুলো এক থেকে দেড় ফুট লম্বা ও শক্ত লাঠির মতো হয়, যা পাকার পর কালো বর্ণ ধারণ করে।
শুধুমাত্র সৌন্দর্যের আধার নয়, সোনালু গাছ একটি দারুণ ঔষধি উদ্ভিদও। প্রাচীনকাল থেকেই ইউনানি চিকিৎসায় এর বাকল ও পাতার ব্যবহার রয়েছে। সোনালুর ফলমজ্জা পানিতে মিশিয়ে পান করলে রক্তচাপজনিত সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের সমস্যা, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ দূর করতে এবং ক্ষত সারাতে এর পাতা ও মূলের ছাল অত্যন্ত কার্যকর। ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগের চিকিৎসাতেও এই গাছের বাকল ব্যবহৃত হয়।
গৌরীপুরের কলতাপাড়া, সতিশা, মমিনপুর, শাহগঞ্জ ও বোকাইনগরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে অযতেœ বেড়ে ওঠা সোনালু গাছগুলো গ্রীষ্মের উত্তাপে পথচারীদের চোখ জুড়িয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতির শোভা বর্ধনের পাশাপাশি ভেষজ গুণাবলিতে অনন্য সোনালু গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘সোনালু কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে এখনো এর ভেষজ ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে।’
উপজেলা বন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান জানান, ‘এটি একটি চমৎকার শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ। এর উজ্জ্বল হলুদ ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে সহায়তা করে। এ ছাড়া পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও গাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন