ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। পানি কমতে শুরু করায় লালমনিরহাটের নি¤œাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজানের ঢল কমে যাওয়ায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন জানান, সোমবার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। পানি নামতে শুরু করলেও ঘরে কাদা ও নোংরা পানি ঢোকায় নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র। ফলে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, গত মৌসুমে ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের কাজ করায় এবারের বন্যায় লোকালয়ে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। আরও ১০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, ‘প্রতি বছরই ভারত থেকে আসা ঢল আর বন্যায় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। আমাদের ত্রাণের প্রয়োজন নেই, আমরা এই ভাঙন থেকে তিস্তা নদীর স্থায়ী সমাধান চাই।’
দ্রুত পানি নেমে গেলেও নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে এখন নতুন করে নদী ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বন্যায় আবাদি জমির ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান জানান, বন্যা মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রতিটি উপজেলায় চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত তা বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন