পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মুজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত দুই আসামিই পলাতক ছিলেন। দ-প্রাপ্তরা হলেনÑ মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. ইউনুস আকনের ছেলে মো. কামরুল আকন এবং চরকখালী গ্রামের মো. টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার। একই মামলার অপর আসামি মো. ইউসুফ আকনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে পূর্বশত্রুতার জেরে মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার বেতমোর বাজারে মো. হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওই দিনই মঠবাড়িয়া থানায় কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার, ইউসুফ আকনসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত কামরুল আকন ও সোহাগ হাওলাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদ- ও অর্থদ-ের রায় দেন। অপরদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইউসুফ আকনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আকন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
রায়ের বিষয়ে পিপি আবুল কালাম আকন বলেন, ‘এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার তদন্ত, সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারক দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন। একই সঙ্গে অর্থদ-ও দেওয়া হয়েছে। অপর এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’ তবে রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকরের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন