× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

হুমায়ূন আহমেদ

জনপ্রিয়তায় তিনি একক ও অনন্য

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

জনপ্রিয়তায় তিনি  একক ও অনন্য

বাংলা সাহিত্যের জ্যোৎস্নালোকিত এক জাদুকরের নাম হুমায়ূন আহমেদ, যিনি সাধারণ মধ্যবিত্তের আটপৌরে জীবনকে অলৌকিক মায়ায় রূপান্তর করেছিলেন। তিনি শুধু গল্প বলেননি, জোছনা আর বৃষ্টির রঙে প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে একেকটি আবেগের দ্বীপ তৈরি করেছেন। তিনি ছিলেন আজন্ম বৃষ্টিবিলাসী মানুষ, যার কাছে বর্ষার প্রতিটি ফোঁটা ছিল একেকটি সুরের মতো।

মেঘের ডাক শুনলেই যিনি ছুটে যেতেন নুহাশ পল্লীর সবুজ ঘাসে। জোছনা দেখার জন্য যিনি শহরের সব আলো নিভিয়ে নিস্তব্ধতার উৎসব করতেন। তার গদ্যের সরলতা যেন বর্ষার প্রথম কদম ফুলের মতো স্নিগ্ধ ও সুবাসিত। তার কলম থেকে নিঃসৃত চরিত্রগুলো কোনো কাল্পনিক অবয়ব নয়, বরং আমাদের অবচেতনের একেকটি রূপক। হলুদ পাঞ্জাবিতে পকেটহীন এক উদাসী বাউ-ুলে, যে ঢাকা শহরের রাজপথে খালি পায়ে হেঁটে মধ্যবিত্তের যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখায়। যুক্তি আর বিজ্ঞানের গোলকধাঁধায় হেঁটে চলা এক নিভৃতচারী সাধক, যিনি মনের গহিনের রহস্য উন্মোচন করেন।

আজ নন্দিত এই লেখকের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৬৩ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। দিনটি উপলক্ষে প্রতি বছর তার ভক্ত, পরিবার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে। হুমায়ূন আহমেদ নেই, তবু আছেন স্মৃতির আয়নায়।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

হুমায়ূন আহমেদ কেবল কাগজের পাতায় আবদ্ধ থাকেননি, সেলুলয়েডের ফিতায়ও বুনেছেন মায়ার মহাকাব্য। পর্দার বাকের ভাইয়ের ফাঁসির আদেশে কেঁদে উঠেছিল গোটা বাংলাদেশ, বাস্তব আর ফিকশন যেখানে একাকার হয়েছিল। ‘আগুনের পরশমণি’ সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধের রূঢ় বাস্তবতাকে যিনি পরম মমতায় এক টুকরো মানবিক আলোয় ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ কিংবা ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’র মতো গানে তিনি জড়িয়ে আছেন আমাদের বিরহে ও আনন্দে।

বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে ঝরে পড়া এক মায়াবী নক্ষত্রের নাম হুমায়ূন আহমেদ, যিনি সাধারণ মধ্যবিত্তের জীবনের ক্যানভাসে এঁকেছিলেন অলৌকিক জোছনা আর বৃষ্টির জলছবি। আজো বাংলার প্রতিটি বর্ষায়, প্রতিটি পূর্ণিমার রাতে তিনি ফিরে আসেন আমাদের অবিনশ্বর অনুভূতির হাহাকার হয়ে।

তিনি ছিলেন শব্দের এমন এক জাদুকর, যিনি অতি সাধারণ বাক্য দিয়েও পাঠকের বুকে তীব্র আলোড়ন তৈরি করতে পারতেন। বর্ষার প্রথম কদম ফুল কিংবা টিনের চালে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দে তিনিই প্রথম শিখিয়েছিলেন কীভাবে মুগ্ধ হতে হয়। যান্ত্রিক শহরের মানুষকে সব আলো নিভিয়ে খোলা আকাশে পূর্ণিমার আলো দেখার মায়াবী নেশা ধরিয়েছিলেন এই কথার কারিগর। তার লেখার শৈলী ছিল নদীর মতো সহজ-সরল, যেখানে মিশে থাকত জীবনের গভীরতম দর্শন ও রসবোধ।

উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, নাটক-চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি একক ও অনন্য।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে হুমায়ূন আহমেদের। নিজের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ইত্যাদি। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘ ঘেটুপুত্র কমলা’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তার পরিচালিত প্রতিটি নাটকও ছিল দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে। পাশাপাশি গান লিখেও সমাদৃত হয়েছেন সবার কাছে। বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদকে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক দেওয়া হয়।

গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নিভৃত অরণ্য নুহাশ পল্লীর লিচুতলাতেই আজ শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন এই কথাসাহিত্যিক। তার প্রয়াণের পর কেটে গেছে বহু বছর, কিন্তু বাঙালির বুকপকেটে, মেঘলা দিনের জানালায় কিংবা প্রথম প্রেমের অতৃপ্তিতে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে আছেন এক অমলিন নস্টালজিয়া হয়ে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!