দেশের দুই জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র। অন্যদিকে বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গতকাল শনিবার থেকে আগামী পাঁচ দিন বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টি সারা দেশেই অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে আগামী দুই দিনে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে কিছু জায়গায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, যা অন্তত পাঁচটি জেলার নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলছেন, ওই জেলায় কোনো নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে উজানে বৃষ্টি থাকায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
তিনি আরও জানান, ‘ভারতের আসামÑ অর্থাৎ উজানে প্রবল বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এবার বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। সে কারণে নদীসংলগ্ন এলাকায় পানি উঠলেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।’
গাইবান্ধা ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সেখানকার সব নদীর পানিই বাড়ছে এবং এর মধ্যে তিস্তার পানি কোনো কোনো জায়গায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, উজানেÑ অর্থাৎ ভারতের আসামে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের এসব এলাকায় নদ-নদীর পানি বাড়বে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। কয়েক দিন পর পানি আবার নেমে যাবে।’
চলতি মাসের শুরুতেই একবার বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল গাইবান্ধার চরাঞ্চলে। ওই সময় জেলার গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে পানি উঠেছিল ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যাওয়ার কারণে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলছেন, জেলার সব নদীরই পানি ক্রমশ বাড়ছে। তিস্তায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা আছে। তবে যমুনায় পানি বাড়লেও বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। তারপরও আগামী দু-তিন দিন সব নদ-নদীর পানি বাড়বে এবং তাতে করে নি¤œাঞ্চলে পানি উঠবে।’
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়লে এখনো বিপৎসীমার নিচেই আছে। আগামী ৫ দিন এসব নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কিছু জায়গায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নি¤œাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলছেন, ভারতের দিকে বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে বাড়বে। এসব এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা আছে। তবে এখনো পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা থেকে নিচেই আছে।’ এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকাতেও আগামী ৫ দিন পানি বাড়বে, তবে তা বিপৎসীমার ওপরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুটি জায়গায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া সুরমা নদী ছাতকে এবং কুশিয়ারা মৌলভীবাজারের শেরপুরে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়। এসব নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমার ওপর উঠে যেতে পারে বলে জানাচ্ছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া আত্রাই, করতোয়া, ছোট যমুনা ও যমুনেশ্বরী নদীগুলোর পানি কমেছে। যদিও আত্রাই ও ছোট যমুনা নওগাঁর দুটি পয়েন্টে এখনো সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টি সারা দেশে অব্যাহত থাকবে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র এটি মোটামুটিভাবে সক্রিয়। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন