সিলেট মহানগরীতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল করার পর পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির সামনের প্রধান সড়ক থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি টিবি গেট হয়ে পূর্ব শাহী ঈদগাহ শাহজালাল প্রফেশনাল কলেজ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। ২৫-৩০ জন নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মিছিলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা ৫-৬টি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে নিষিদ্ধ সংগঠনটির অনুসারী মাসুম আহমদ মাহি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মিছিলের একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, মিছিলটি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাজমুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং রঞ্জিত সরকারের অনুসারীদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শহিদুর রহমান জানান, এই ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, দিন দিন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়া এবং ইতিপূর্বে নগরীর নবাব রোড ও কাজিটুলাসহ কয়েকটি জায়গায় মিছিল হওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। এর প্রতিবাদে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তার পরোক্ষ মদদ ও উদাসীনতার কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বিগত সরকারের আমলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে ছাত্রদলের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হকের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
ছাত্রদলের এই অভিযোগের বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে পুলিশ নিষ্ক্রিয় নয়। তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা হঠাৎ করে ঝটিকা মিছিল করে দ্রুত সরে যায়। তবে শুক্রবারের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতাভুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন