লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের (এমপি) বসার জন্য পরিদর্শন কক্ষ মেরামত ও ডেকোরেশন বাবদ সরকারি বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা। কিন্তু খরচ দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। অবিশ^াস্য এই ব্যয়ের বহর দেখে খরচ দেখানো অধিকাংশ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষের কথা বলা হয়। এই কক্ষ মেরামত, সুসজ্জিতকরণ ও আসবাবপত্র কেনা বাবদ ৬ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়। প্রায় সব জায়গায় এমনটা দেখা গেলেও ব্যতিক্রম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা। এ কাজে সরকার নির্ধারিত বরাদ্দের ৬ লাখ টাকাসহ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিপি) প্রকল্পের অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিলেও এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল সরকারি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিলাসবহুল পরিদর্শন কক্ষ তৈরি করেছেন।
একটি পরিদর্শন কক্ষ বাবদ ছয় লাখের স্থলে ১৬ লাখ টাকা খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, জনগণের করের প্রতিটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। তারা এই অতিরিক্ত ব্যয়ের স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন বলে মনে করেন।
গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন কক্ষটি উদ্বোধন করেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। এর পর থেকেই মূলত কক্ষটির মেরামত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বরাদ্দের নামে অধিকাংশ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ ঘুরে দেখা যায়, পরিষদের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় (উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের কক্ষ) এমপির বসার জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নামে একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বসানো হয়েছে এসিসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র। তবে কক্ষটি সুসজ্জিতকরণে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব কোনোভাবেই মেলাতে পারছেন না নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, এমপির অভিপ্রায় অনুযায়ী তিনি যে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন। সে অনুযায়ী এ প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, এ বিষয়ে তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। তিনি আরও জানান, আমার যোগদানের আগেই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তারাই জবাবদিহি করবেন বলে দাবি করেন ইউএনও।
এলাকায় ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হওয়া এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় এমপি রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে। তবে তাকে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন