বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৫, ০১:০০ এএম

পাকিস্তানজুড়ে ইসলামপন্থি জঙ্গি হামলায় বছরে নিহত ৫২০

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৫, ০১:০০ এএম

পাকিস্তানজুড়ে ইসলামপন্থি জঙ্গি হামলায় বছরে নিহত ৫২০

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বোমা ফেলতে ইসলামপন্থি জঙ্গিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কেনা কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সক্রিয় জঙ্গিদের হাতে ড্রোন চলে যাওয়াকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সমূহ বিপদ হিসেবেও দেখছেন তারা।

জঙ্গিরা যেসব ড্রোন ব্যবহার করছে, সেগুলো চারটি রোটর বা পাখায় চলে এবং উলম্বভাবে উড়তে ও নামতে পারে। এ যুদ্ধাস্ত্রের উপস্থিতি এমনিতেই তুমুল চাপে ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতিতে থাকা ফ্রন্টলাইনের পুলিশ বাহিনীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, কর্মকর্তারা এমনটা বলছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চলতি মাসের শুরুর দিকে জঙ্গিরা এমন দুটি কোয়াডকপ্টার দিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলার একটি থানায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটি কাছের একটি বাড়িতে আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় এক নারী নিহত ও তিন শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আনোয়ার। গত শনিবারও আরেকটি থানার ওপর একটি ড্রোন শনাক্ত হয়, যেটি বন্দুক দিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই ড্রোনে একটি মর্টারের গোলা ছিল, বলেছেন আনোয়ার।

তিনি জানান, গত আড়াই মাসে বান্নু ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর এরকম অন্তত ৮টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অঞ্চলটির পুলিশপ্রধান সাজ্জাদ খান বলেছেন, জঙ্গিরা এখন ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গিরা এ ধরনের আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করতে পেরেছে, কিন্তু তারা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে রয়েছে, যে কারণে তারা নিশানায় ঠিকভাবে আঘাত হানতে পারছে না, বলেছেন তিনি।

পাকিস্তানের ৫ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গিরা মূলত স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক আইইডি বা মর্টারের গোলা ফেলতে এ কোয়াডকপ্টারগুলো ব্যবহার করছে। ওই বিস্ফোরকগুলো বল বিয়ারিং বা লোহার টুকরায় ভর্তি থাকে। প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ বলেছেন, নতুন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সম্পদ তাদের হাতে নেই। ‘এই ধরনের ড্রোন মোকাবিলার সরঞ্জাম আমাদের কাছে নেই। জঙ্গিরা আমাদের চেয়ে ভালোভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত,’ রোববার জিও নিউজকে এমনটাই বলেছেন তিনি।

পুলিশ এসব বললেও কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীই এখন পর্যন্ত হামলায় ড্রোন ব্যবহারের কথা স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যারা পাকিস্তানি তালেবান নামে বেশি পরিচিত, ড্রোন ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে। ‘আমরা এই প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি,’ টিটিপির এক মুখপাত্র এমনটাই বলেছেন রয়টার্সকে।

২০২৪ সালে পাকিস্তানজুড়ে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলায় ৫২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাধীন সংস্থা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ। জঙ্গিদের নিয়মিত হামলা, এবং এই হামলার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী দীর্ঘ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে এমন আশঙ্কা থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্ত অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।বাসিন্দারা বলছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান তাদের অনেককে বাস্তুচ্যুত করবে।২০১৪ সালে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ওই অঞ্চলের লাখ লাখ লোককে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল। পরে ঘরে ফিরতে তাদের অনেকের কয়েক বছরও লেগে যায়। নতুন করে এ ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা আছে কিনা, রয়টার্সের এমন প্রশ্নে জবাব দেয়নি পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

রূপালী বাংলাদেশ

Shera Lather
Link copied!