× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০১:২১ এএম

গাজায় নীরব শিশু - যুদ্ধ কেড়ে নিচ্ছে কণ্ঠস্বর

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০১:২১ এএম

গাজায় নীরব শিশু - যুদ্ধ কেড়ে নিচ্ছে কণ্ঠস্বর

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় প্রতিদিনের সহিংসতা শুধু প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না, বরং শিশুদের মানসিক জগতে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বহু শিশু হঠাৎ করে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। তীব্র বোমাবর্ষণ, বিস্ফোরণের শব্দ এবং মৃত্যুভয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা এসব শিশু মানসিকভাবে এমন আঘাত পাচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক আচরণ বদলে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত বা স্নায়বিক ক্ষতির কারণে সমস্যা দেখা দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো দৃশ্যমান শারীরিক আঘাত নেই। বরং চরম মানসিক আঘাত শিশুদের নীরব করে দিচ্ছে। মনোচিকিৎসকরা একে ‘নীরব যন্ত্রণা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে ভয় ও আতঙ্ক শরীরকে স্থবির করে দেয় এবং শিশুরা প্রতিক্রিয়া জানানো বন্ধ করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবার হারানো, মৃত্যুদৃশ্য প্রত্যক্ষ করা কিংবা বারবার সহিংসতার মুখোমুখি হওয়াÑ এসব অভিজ্ঞতা শিশুদের গভীরভাবে ভেঙে দিচ্ছে। এর ফলে তাদের শেখা, খেলাধুলা ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও জীবনের কিছু আলো দেখা যাচ্ছে। মধ্যগাজায় প্রায় ৩০০ যুগলের গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা যুদ্ধের অন্ধকারে সামান্য আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুণ-তরুণীদের জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও এই আয়োজন মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এদিকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে একটি বড় নৌবহর অবরোধ ভেঙে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণেরও একটি প্রচেষ্টা। তবে বাস্তবতা এখনো কঠিন। সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সহিংসতা থামেনি; বরং মাঝেমধ্যেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটছে। দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে, ফলে স্থায়ী সমাধান এখনো দূরবর্তী।

সব মিলিয়ে গাজা এখন এক গভীর মানবিক সংকটের প্রতীক। শিশুদের নীরবতা, অব্যাহত সহিংসতা এবং সীমিত সহায়তার মধ্যে এখানকার মানুষ প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ^বাসীর জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!