অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ভূমি দখল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ৮ হাজার মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতার অভাবে উদ্ধারকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো এখনো স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চালানো হামলায় ইতোমধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন।
এদিকে গাজায় নতুন করে সীমারেখা তৈরি করছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ আরও ভেতরের দিকে সরিয়ে এখন নতুন ‘কমলা রেখা’ গড়ে তোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, এর মাধ্যমে গাজার আরও প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বর্তমানে উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় ভূমি সমতল করা, খনন কাজ এবং পুরোনো সীমাচিহ্ন সরিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। এর ফলে খান ইউনিস, উত্তর গাজা ও পূর্ব গাজা শহরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাজারো পরিবার পশ্চিম দিকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, নতুন সীমার বাইরে যেতে হলে মানবিক সহায়তা দলগুলোকে আগাম অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব এলাকায় সামরিক ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় এই পরিবর্তিত সীমারেখা ভবিষ্যতে স্থায়ী বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্র করার শর্ত দিচ্ছে, আর ফিলিস্তিনি পক্ষ পূর্বের চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন