যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা টানাপোড়েন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ¦ালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর সেই ঘনিষ্ঠতারই নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় পুতিনের বেইজিংয়ে পৌঁছানোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এটি পুতিনের দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক। দুই নেতা একে অপরকে ‘প্রিয় বন্ধু’ ও ‘পুরোনো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন।
রাশিয়া-চীন বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই সফরে দুই দেশের কূটনৈতিক উষ্ণতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে লাল গালিচায় পাশাপাশি হাঁটেন দুই নেতা। সামরিক ব্যান্ডে বাজানো হয় রুশ ধ্রুপদি গান। পুরো আয়োজনেই ছিল রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বার্তা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক আবেগের নয়, বরং বাস্তব স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় চাপে পড়ে রাশিয়া এখন অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জ¦ালানি বাণিজ্যে অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল। গত চার বছরে দুই দেশের বাণিজ্য দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। রাশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির বড় অংশ এখন চীন থেকেই আসছে।
অন্যদিকে চীনের জন্য রাশিয়া নিরাপদ জ¦ালানির উৎস। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তার কারণে বেইজিং স্থলপথে রুশ গ্যাস ও তেল সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহী। এ কারণে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-টু’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মূল্য নির্ধারণ ও অতিরিক্ত নির্ভরতার আশঙ্কায় এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
ভূরাজনীতিতেও দুই দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রায়ই তারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেয়। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়াও চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্কের ভিত এখন কৌশলগত প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। তাই মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই সম্পর্ক সহজে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন