ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভে নেমেছে অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। শনিবার সকাল থেকেই দলে দলে তরুণ-তরুণীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই সরাসরি আন্দোলনের মঞ্চে যোগ দেন। তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালোবাসা ও অহিংসার মাধ্যমেই নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হবে। তিনি সবাইকে বই, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, বিভিন্ন সর্বভারতীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও দাবি জানায় তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যন্তর-মন্তরের এই সমাবেশকে তাদের প্রথম বড় মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ। বিমানবন্দর, সীমান্ত এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর-মন্তর ও আশপাশের এলাকায় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, তরুণদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি অংশগ্রহণকারীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ভারতের তরুণসমাজের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটেছে। এখন এই আন্দোলন কত দূর গড়ায় এবং সরকার কীভাবে এর মোকাবিলা করে, সেদিকেই নজর দেশজুড়ে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন