ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

লেবাননে নতুন হামলার শঙ্কা

ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো জীবন

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৫:৫২ এএম

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ হয়তো আর কখনো শনাক্ত করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ দ্রুত পচে কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে, ফলে পরিচয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ চলছে বেলচা, কোদাল ও খালি হাতে। ডিএনএ পরীক্ষার সরঞ্জামের সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বজনদের কাছে সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তা। কেউ বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেনÑ এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার মানসিক যন্ত্রণা পরিবারগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে। অজ্ঞাত মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কবরস্থান তৈরি করা হলেও অনেকের পরিচয় হয়তো চিরদিনের মতো অজানাই থেকে যাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সতর্কবার্তার পরপরই বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পৌর মেয়রও রয়েছেন। আবাসিক ভবন ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রতিহত করেছে এবং ড্রোন, রকেট ও কামানের গোলা ব্যবহার করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। উত্তর ইসরায়েলেও নতুন করে ড্রোন সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার আলোচনা চললেও অন্যদিকে গাজা ও লেবাননের বাস্তবতা এখনো মৃত্যু, উৎখাত ও অনিশ্চয়তার নির্মম চিত্রই তুলে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা যতটা উচ্চারিত হচ্ছে, যুদ্ধের ছায়াও ততটাই দীর্ঘ হয়ে উঠছে।