পাকিস্তানে দারিদ্র্য ও শিক্ষাসংকট নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সামাজিক অবনতির একটি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় কমে মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে এ হার বেড়ে ৩৬ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। শহরাঞ্চলেও দারিদ্র্য বেড়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। প্রদেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শিক্ষা খাতে ব্যয়ও উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ কমে প্রায় ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দেশের মাত্র ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। বেলুচিস্তানের অনেক বিদ্যালয়ে শৌচাগার সুবিধাও নেই। বর্তমানে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার ৬৩ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৫৪ শতাংশ। এখনো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে টানা ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ২১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনকে সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বলে দাবি করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, মিরনশাহ ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে নিহতদের বহু সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ হ্রাস এবং নিরাপত্তা অস্থিতিশীলতাÑ এই তিন সংকট একসঙ্গে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

