পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বাকিরা সাধারণ নাগরিক। এ ছাড়া প্রায় একশ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিতর্কের জেরে আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিও জানিয়ে আসছেন। সরকার আন্দোলনকারী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পুরো অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অচলাবস্থা জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র ও ব্যাংকিং কার্যক্রম। ফলে সাধারণ মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকটে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। এদিকে, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈঠক করেছে। সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের বান্নু জেলায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বিস্ফোরণে একটি যাত্রীবাহী যান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রথম ঘটনার স্থান থেকে কিছু দূরে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আরও দুজন নিহত হন। উদ্ধারকারীরা আহতদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। অতিরিক্ত বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। একই সময়ে কাশ্মীরের সহিংসতা এবং বান্নুর বিস্ফোরণের ঘটনা পাকিস্তানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

