যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলমান থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলা ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকর্মী ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা অনেক এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে চিকিৎসা সূত্র জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া গাজা সিটির পশ্চিমে আল-রিমাল এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। মধ্যগাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে পৃথক এক ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৭ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। সংস্থাটি জানায়, রাতভর একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গাজার মতো দক্ষিণ লেবাননেও পরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে নাবাতিয়েহ জেলার শুকিন ও কাফর দাজ্জাল এলাকার উপকণ্ঠে একটি পিকআপ ভ্যানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আবর্জনা নামানোর সময় ওই গাড়িতে হামলা হয়। এতে দুজন আহত হন।
লেবানন ও ইসরায়েল গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের ভূখ- থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করলেও তার মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা ঘটল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন