ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

মালয়েশিয়ার অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যুর মিছিল

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১২:১২ এএম

মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের পর দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে আড়াই বছরে অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, অতিরিক্ত ভিড়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। পার্লামেন্টে প্রকাশিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানায়, গত কয়েক বছরে আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ, নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েই মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে আটককেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। ফলে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন সংক্রামক রোগে এসব মৃত্যু হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া কয়েকজন সাবেক আটক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অসুস্থ হলেও যথাযথ চিকিৎসা মিলত না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরিবর্তে একই ধরনের সাধারণ ওষুধ দেওয়া হতো। গুরুতর অসুস্থ না হলে হাসপাতালে নেওয়া হতো না বলেও তারা দাবি করেন। এক বাংলাদেশি সাবেক আটক ব্যক্তির অভিযোগ, অসুস্থতার কথা জানালে অনেককে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মুখেও পড়তে হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আটক প্রত্যেক ব্যক্তির যথাযথ ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, আটককেন্দ্রগুলোর অমানবিক পরিবেশ অনেক অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর জন্য দায়ী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।