ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

 ‘পানি নেই, আছে মৃত্যুভয়’ গাজায় যেভাবে কাজ করছেন সাংবাদিকরা

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৮:৫২ এএম
গাজায় যেভাবে কাজ করছেন সাংবাদিকরা

কখনো কল্পনাও করিনি যে, আমি তাঁবুতে থাকব, সেখানে কাজ করব। পানি ও বাথরুমের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে আমাকে বঞ্চিত থাকতে হবে। এটা (তাঁবু) গ্রীষ্মকালে গ্রিনহাউসের মতো এবং শীতকালে রেফ্রিজারেটরের মতো কাজ করে- ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এসব কথাই বলছিলেন সাংবাদিক আবদুল্লাহ মিকদাদ। গাজা উপত্যকায় সাংবাদিকরা বিভিন্ন হাসপাতালের আশপাশে কাপড় এবং প্লাস্টিকে মোড়া তাঁবুতে কাজ করেন এবং সেখানেই ঘুমান।

কাজের জন্য সারাক্ষণ বিদ্যুৎ এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হয় সাংবাদিকদের। অথচ গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাই হাসপাতালের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য হন তারা, যেখানে জেনারেটর এখনো কাজ করছে। সেখানে নিজেদের ফোন এবং সরঞ্জাম চার্জ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পান তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরের জন্য গাজার স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে। কারণ, বিবিসি নিউজসহ বিদেশি মিডিয়াকে তাদের দেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে দেয় না ইসরায়েল (একমাত্র খুব বিরল ঘটনা ছাড়া যখন সাংবাদিকদের ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়)।

শত অসুবিধা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকা থেকে চলমান সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করেন সাংবাদিকরা। তবে অনেক সময় সংগ্রহ করা তথ্য বা তাদের তোলা ছবি ও ভিডিও হাসপাতাল লাগোয়া তাঁবুতে না ফেরা পর্যন্ত পাঠাতে পারেন না তারা। কারণ একমাত্র সেখানে পৌঁছালে তবেই বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস রয়েছে।  সাংবাদিক হানীন হামদৌনা বিবিসিকে বলেন, হাসপাতালের কাছে থাকলে আমাদের কভারেজ দ্রুততা পায়। আমরা আহত ও মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে, জানাজার বিষয়ে সরাসরি জানতে পারি। সাক্ষাৎকারের জন্যও সরাসরি অ্যাক্সেস পাই।

তিনি আরও বলেছেন, কারণ এই ধরনের খবর সংগ্রহের জন্য ঘোরাফেরা করা বা ফোন করা প্রায়শই আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম দোনিয়া আল-ওয়াতানের একজন সাংবাদিক তিনি। বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গেও কাজ করেন।  তবে, হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। এমনকি তাদের পেশাদার মর্যাদাও নিশ্চিত করে না। অথচ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা পাওয়ার কথা। ‘মনে হয় সাংবাদিক বলে আমাদের সবসময় নিশানা করা হচ্ছে’

‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু গাজাতেই ১৮৯ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর টানা হামলায় প্রাণহানি বাড়ছেই। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গাজায় অনাহারে আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৯৮ জন ফিলিস্তিনি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যার পর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

এর ফলে গত প্রায় দুই বছরে ইসরায়েলি অভিযানে গাজার মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৮৯৫। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ও গোলার আঘাতে প্রাণ হারান। অন্যদিকে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে ২ জন শিশু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল বুধবারের পরই অপুষ্টিজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১৩। এদের মধ্যে শিশু রয়েছে ১১৯ জন। এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।