অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে বসে থাকেন, কিন্তু তেমন ফল পান না। আবার কেউ অল্প সময় পড়েও ভালো ফল করেন। পার্থক্যটা আসলে ‘কতক্ষণ পড়ছি’ তাতে নয়, বরং ‘কীভাবে পড়ছি’ তার ওপর নির্ভর করে। বর্তমান সময়ের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাজীবনে শুধু পরিশ্রম করলেই হবে না, দরকার স্মার্ট স্টাডি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু কার্যকর স্টাডি টিপস, যা পড়াশোনাকে সহজ, আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।
নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন
যখন খুশি তখন পড়তে বসলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করলে মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে সেই সময়টাকে ‘স্টাডি টাইম’ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। সকালবেলা কঠিন বিষয়, রাতে রিভিশন, মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি। এভাবে রুটিন সাজালে পড়ার চাপ কম লাগে।
বড় লক্ষ্য নয়, ছোট ছোট টার্গেট নিন
‘আজ পুরো বই শেষ করব’Ñ এই চিন্তা অনেক সময় ভয় তৈরি করে। তার বদলে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। যেমনÑ ২০ মিনিটে ৫ পৃষ্ঠা, ১ ঘণ্টায় ১০টি গণিত সমস্যা, আজ শুধু একটি অধ্যায়ের সারাংশ। ছোট লক্ষ্য পূরণ হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
পড়ার সময় মোবাইল দূরে রাখুন
একটি নোটিফিকেশনই মনোযোগ ভেঙে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার মোবাইল চেক করলে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। তাই পড়ার সময় ফোন সাইলেন্টে রাখুন, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন, প্রয়োজনে ফোকাস মোড ব্যবহার করুন।
শুধু পড়বেন না, বুঝে পড়ুন
অনেকেই মুখস্ত করতে গিয়ে দ্রুত ভুলে যায়। কারণ তারা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন না। নিজের ভাষায় লিখুন, কাউকে বুঝিয়ে বলুন, বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে মিলান, যত বেশি বুঝবেন, তত বেশি মনে থাকবে।
নোট তৈরির অভ্যাস করুন
নিজের হাতে লেখা ছোট নোট পরীক্ষার আগে খুব কাজে দেয়। নোটে থাকতে পারেÑ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, সংজ্ঞা, তারিখ, শর্ট ট্রিকস রঙিন কলম বা হাইলাইটার ব্যবহার করলে পড়া আরও আকর্ষণীয় লাগে।
নিয়মিত রিভিশন করুন
আজ যা পড়লেন, কয়েকদিন পরে তা ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই রিভিশন খুব জরুরি। একটি কার্যকর নিয়ম হতে পারে; ১ দিন পরে রিভিশন, ৭ দিন পরে আবার, পরীক্ষার আগে দ্রুত ঝালাই। এতে তথ্য দীর্ঘসময় মনে থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
অনেকে মনে করেন রাত জেগে পড়লেই বেশি শেখা যায়। কিন্তু ঘুম কম হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম। পর্যাপ্ত পানি পান। হালকা ব্যায়াম। এসবও ভালো ফলের অংশ।
অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না
প্রত্যেক মানুষের শেখার গতি আলাদা। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ ধীরেÑ এটাই স্বাভাবিক। অন্যের ফল দেখে হতাশ না হয়ে নিজের উন্নতির দিকে নজর দিন। গতকালের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়াটাই আসল সফলতা।
মনে রাখতে হবে পড়াশোনা কোনো শাস্তি নয়, এটি নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।
সঠিক পরিকল্পনা, মনোযোগ আর ধারাবাহিক চেষ্টা থাকলে কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়। ‘একদিনে সফলতা আসে না। কিন্তু প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই একদিন বড় সফলতা এনে দেয়।’
লেখক : মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, সিনিয়র শিক্ষক, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার, স্কুল অ্যান্ড কলেজ

