আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর প্রথম কার্যদিবসে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সব মূল্যসূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি। গতকাল রোববার (১৪ জুন) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের ওপরে। লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মূল্যসূচকেও বড় উত্থান হয়েছে। সূচকের এই বড় উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি কর কাঠামোতে আনা পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে ক্রয়চাপ বেড়েছে। এ কারণে বাজেটের পর প্রথম কার্যদিবসেই হয়েছে বড় উত্থান।
গত ১১ জুন জাতির সামনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটকে পুঁজিবাজারবান্ধব হিসেবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের পর প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও বাড়ছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ২৮টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে দুটির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আর্থিক খাতের ১৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে পাঁচটির এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমা খাতের ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে আটটির এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১১২৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ২১১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

