ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ফ্রি ট্রেড জোনে আমদানি বাণিজ্যের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক জারি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

ফ্রি ট্রেড জোনকেন্দ্রিক (এফটিজেড) আমদানি বাণিজ্য পরিচালনায় নতুন ফ্রেমওয়ার্ক জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এফটিজেডে আমদানি, অর্থায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একদিকে বাণিজ্য সহজ করবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার আওতায় এফটিজেড-সংক্রান্ত সব লেনদেন পরিচালনা করবে। এ সুবিধা পাবে উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী আমদানিকারক এবং এফটিজেডে কার্যরত লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

নির্দেশনায় কনসাইনমেন্টভিত্তিক আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার বা বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে। ফলে মালিকানা হস্তান্তরের আগে এসব পণ্যকে ব্যাংকগুলো মজুত হিসেবে বিবেচনা করবে না এবং এ সংক্রান্ত কোনো ঋণঝুঁকিও গ্রহণ করবে না।

এফটিজেড সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধরনও স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের কোনো ক্রেতা এফটিজেড থেকে পণ্য কিনলে তা আমদানি হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, এফটিজেডে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওই বিক্রয় রপ্তানি এবং স্থানীয় ক্রেতার জন্য আমদানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে এক্সপি ও আইএমপি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া সব ধরনের অর্থপ্রদান অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য এফটিজেডে সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। অন্যদিকে, বিলম্ব মূল্য পরিশোধের ভিত্তিতে আমদানিÑ যার মধ্যে বায়ার্স ক্রেডিট ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট অন্তর্ভুক্ত সেগুলো সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো এফটিজেডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন সুবিধা দিতে পারবে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোও প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই ফ্রেমওয়ার্ক কার্যকর হলে এফটিজেডভিত্তিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্প, স্থানীয় উৎপাদনশীল খাত এবং সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও আলহাজ সেলিম রহমান নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আলহাজ সেলিম রহমান নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন। বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। পেশাগত জীবনে তিনি দেশে ও বিদেশে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত। এর আগেও বদিউর রহমান ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার নেতৃত্বে ধারাবাহিক সফলতার মাধ্যমে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তিনি এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক। এ ছাড়া বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। ইনশাল্লাহ্, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ সেলিম রহমান চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ খলিলুর রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সেলিম রহমান কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেডিএস গার্মেন্টস ডিভিশন, কেডিএস এক্সেসরিজ ডিভিশন, কেডিএস টেক্সটাইল ডিভিশন, কেডিএস স্টিল ডিভিশন, কেডিএস লজিস্টিক ডিভিশন, কেডিএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহসভাপতি।

আলহাজ সেলিম রহমানের আগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিজ্ঞপ্তি