× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রহিম শেখ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর কাণ্ড 

গাড়ি খুঁজতে গিয়ে মিলল  ক্যারিবিয়ান পাসপোর্ট!

রহিম শেখ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

গাড়ি খুঁজতে গিয়ে মিলল  ক্যারিবিয়ান পাসপোর্ট!

মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩। যার ইঞ্জিন চালু হয়েছিল শিল্পঋণের টাকায়, কিন্তু চাকা ঘুরেছে ক্ষমতার করিডোরে। কাগজে এটি ছিল শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি; বাস্তবে তা হয়ে ওঠে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত বাহন। বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আনা এই একটি গাড়িকে কেন্দ্র করেই উন্মোচিত হয় ব্যাংকের ভেতরে চলা স্বার্থের সংঘাত, ঋণ ব্যবস্থাপনার কারসাজি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশ্য উপেক্ষার এক ভয়াবহ চিত্র। টানা ৪ বছর ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে দেশে চলাচল করা এই গাড়িটির যখন খোঁজ মিলে তখন সামনে আসে একটি ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্রের পাসপোর্ট। গোপন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে ইস্টার্ন ব্যাংক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছে। এসব অভিযোগ এখন তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি সম্প্রতি ইবিএল চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের দেশি-বিদেশি পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সম্পদ, ব্যবসা এবং বিদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রমের বিস্তৃত নথিও তলব করেছে। 

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার আওতায় সিআইডির জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরীকে তার নিজের, স্ত্রী-সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গত ১০ বছরের বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড, দেশে ও বিদেশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য, আয়কর নথি, বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায় মালিকানা এবং শেয়ারহোল্ডিং, বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অনুমোদন আর বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়সংক্রান্ত সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে গুলশান থানার ওসিকে অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশ প্রাপ্তির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথি শওকত আলীর থেকে সংগ্রহ করে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে পাঠাতে। 

এই অনুসন্ধান এমন এক প্রেক্ষাপটে এগোচ্ছে, যখন শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে আগে থেকেই ব্যাংকিং অনিয়ম, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠে এসেছে। ব্যাংক রেকর্ড, কাস্টমস নথি এবং বিদেশি সরকারি দলিল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা শওকত আলীর অনিয়মের একটি ধারাবাহিক চিত্র।

নথি অনুযায়ী, ইবিএল ২০১৬ সালে তাদের গ্রাহক ও শীর্ষ ঋণখেলাপি নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন এ অ্যান্ড বি আউটওয়্যার লিমিটেডের নামে একটি ‘শিল্প ঋণ’ অনুমোদন দেয়। ওই ঋণের অর্থ ব্যবহার করে ২৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩ আমদানি করা হয়। আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে (সি-১৬৬০৪৪) এঅ্যান্ডবি আউটওয়্যার লিমিটেডকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও নথি ও সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। গাড়িটি কখনোই কোনো শিল্প বা উৎপাদনমূলক কাজে ব্যবহার হয়নি।
সিইপিজেডের বন্ড তদারকির সঙ্গে যুক্ত দুই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার জানিয়েছেন, আমদানির শুরু থেকেই গাড়িটি ইবিএল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যানের ছেলে জারান আলী চৌধুরী নিয়মিত গাড়িটি ব্যবহার করতেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বন্ড সুবিধায় আনা গাড়িটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে চলাচল করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়িটির ছবি ও তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে এটি আমদানিকারক কোম্পানির নামে নিবন্ধন করা হয়। বন্ড বিধি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের নিবন্ধন বন্ড আইনের মূল শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি কেবল শিল্পকারখানার কাজেই ব্যবহারের অনুমতি থাকে। এই গাড়িকে ঘিরে চলা ঘটনাপ্রবাহের সময়কাল মিলে যায় ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণ শ্রেণিকরণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে। নথি অনুযায়ী, নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান মাল্টি সাফ ব্যাগস লিমিটেডের কাছে ইবিএলের পাওনা প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ ঋণটি খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও রেকর্ডে দেখা যায়, কৃত্রিমভাবে এটিকে ‘নিয়মিত’ দেখানো হয়েছে।

নাজমুল আবেদীন বর্তমানে সিআইডি ও কাস্টমের দায়ের করা মামলার একজন আসামি। সরকারি নথিতে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২২২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তার ব্যাংকিং সুবিধা অব্যাহত থাকায় ইস্টার্ন ব্যাংকের ভেতরে স্বার্থের সংঘাত ও সুশাসনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধান আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, সম্পর্কটি শুধু ঋণ অনুমোদন বা শ্রেণিকরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না। করপোরেট রেকর্ডে দেখা গেছে, মাল্টি সাফ লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার তালিকায় শওকত আলী চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতি ছিল। তার বাল্যবন্ধু হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজওয়ার ফিরোজ হক বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারী ছিলেন। তাজওয়ার ফিরোজ হকের স্ত্রী ফারাহনাজ হক ছিলেন মাল্টি সাফের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন শেয়ারহোল্ডার। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাসহ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর মতে, ফারাহনাজ হকের শেয়ারহোল্ডিং একটি ‘আবরণ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শেয়ারহোল্ডিং পরিবর্তনের ধরন, প্রবেশ-প্রস্থান এবং কোম্পানির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আড়ালে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অন্যত্র ছিল। 

যদিও বিদেশি নথি পর্যালোচনায় গেলে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। নাজমুল আবেদীন নিজেকে একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে বিপুল অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নাজমুল আবেদীনের সেই মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩ খোঁজ পান তখন সামনে আসে একটি ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্রের পাসপোর্ট। গোপন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে ইস্টার্ন ব্যাংক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন।

সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, শওকত আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বরিন সিঙ্গাপুরে যে ঠিকানা ব্যবহার করে সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন, একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন মুজিবুর রহমান মিলনÑ যিনি মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দ-িত, অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত ফেরারি আসামি এবং ইবিএলের একজন ঋণখেলাপি। সিঙ্গাপুরের ওই ঠিকানাটি হলোÑ ১২০ লোয়ার ডেল্টা রোড, ১১-০৯, সেনডেক্স সেন্টার।

অনুসন্ধানে আরও পাওয়া গেছে, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত একাধিক অফশোর প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন। বিএফআইইউর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ ভার্জিনের তিনটি কোম্পানির সঙ্গে ঋণপত্র তিনটির মধ্যে ২০১৫ সালের এলসি নং ২৪৯৪১৫০২০০৩৯-এর মূল্য ছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ লাখ ডলার। ২০২০ সালের এলসি নং ২৪৯৪২০০১০০২৫-এর মূল্য ৪ দশমিক ৬৪ লাখ ডলার। আর ২০২৩ সালের এলসি নং ২৪৯৪২৩০১০০১৩-এর মূল্য ২১ দশমিক ৪১ লাখ ডলার। সব এলসিতেই আমদানিকারক ছিল এস এন করপোরেশন। আর এর সুবিধাভোগী কোম্পানিগুলো ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের একই ঠিকানায় নিবন্ধিত। বিএফআইইউর তদন্তে আরও দেখা যায়, দ্বিতীয় কোম্পানি ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেডের ই-মেইল ঠিকানাও প্রথম কোম্পানি রেড রুবি গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে মিলে গেছেÑ যা তাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের সন্দেহভাজন শেল কোম্পানির সঙ্গে এই লেনদেন বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও অর্থ পাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

সাধারণত স্ক্র্যাপ ভেসেল বা পুরোনো জাহাজ আমদানি করা হয় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য। এসব জাহাজ ভেঙে পাওয়া লোহা, স্টিল, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে এর প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রামের সীতাকু- উপকূলে, যেখানে শতাধিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। এ খাত থেকে দেশের মোট রড ও লোহা চাহিদার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ পূরণ হয়। বছরে শতাধিক জাহাজ ভাঙা হয়, যা থেকে হাজার হাজার টন লোহা ও ধাতু সংগ্রহ করা যায়। 

বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বরীন, মেয়ে যারা নামরীন, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ২৮ ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শওকত আলীর নামে ১৪টি, তাসমিয়া আম্বারীনের নামে ১৫টি, যারা নামরীনের নামে ৯টি, জারান আলীর নামে ৩টি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি হিসাব রয়েছে। গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট আট হাজার ৪০৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা জমা ও আট হাজার ২৪৭ দশমিক ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে হিসাবগুলোর সম্মিলিত স্থিতি প্রায় ১৭৩ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা।

বিএফআইইউ বলেছে, উল্লেখিত হিসাবগুলোর কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ও সহায়ক দলিলাদি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওপেন সোর্স, বিএসইসি, ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি বন্ড থেকে সংগৃহীত তথ্যও যাচাই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশি সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য সংগ্রহ এখনো প্রক্রিয়াধীন।

বিএফআইইউর প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়Ñ শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এস. এন. করপোরেশনের ২০১২ সাল থেকে পুরোনো জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ১৪১টি এলসি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ১১টি এলসি বিশ্লেষণে জাহাজের চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রাম বন্দর হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, বরং জাহাজসংক্রান্ত খবর প্রচারকারী ব্রিটিশ জার্নাল লোয়েড’স লিস্ট অনুযায়ী এক জাহাজের দুটি ভিন্ন তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের একই ঠিকানায় নিবন্ধিত তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকেও পুরোনো জাহাজ ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যা সন্দেহজনক। পরবর্তীতে শওকত, তার পরিবার ও অন্যান্য ব্যবসার তথ্যও অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অনুসন্ধানে শওকত এবং তার পরিবারের ব্যাংক হিসাবগুলোর প্রাথমিক বিশ্লেষণে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে জুবিলি রোড শাখার ঢাকা ব্যাংক পিএলসিতে ২০০৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত শওকত আলীর একটি প্লাটিনাম হিসাব ছিল। এই হিসাবে মোট জমা ৩৯৮ কোটি টাকা, উত্তোলনও করা হয় ৩৯৮ কোটি টাকা। এই অ্যাকাউন্টটি তার ব্যক্তিগত হলেও তা এস. এন. করপোরেশনের ব্যাবসায়িক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা কর ফাঁকির ইঙ্গিত দেয়। শওকত আলী চেয়ারম্যান থাকা ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় নিজের ব্যক্তিগত প্রিমিয়াম সেভিংস হিসাব রয়েছে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে ১২৫ বার নগদ টাকা উত্তোলন করেছেন ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন। শওকত আলী ব্যাংকটির পরিচালক ও দ্বিতীয় মেয়াদের চেয়ারম্যান হলেও তার অ্যাকাউন্ট থেকে তহবিল উত্তোলনে ক্ষমতার অপব্যবহারের সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলীর মেয়ে যারা নামরীনের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ী হিসাবে ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। যদিও তার আয়ের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অ্যাকাউন্টটিতে লেনদেনের উৎস সম্পর্কে শেয়ার লেনদেন ও এস. এন. করপোরেশন উল্লেখ আছে, যা কর ফাঁকির ইঙ্গিত দেয়। একই শাখায় যারা নামরীনের প্রিমিয়াম সেভিংস হিসাব থেকে ৯৮ বার নগদ উত্তোলন করেছেন ব্যাংকটির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন। ব্যক্তিগত হিসাব থেকে এ উত্তোলন ক্ষমতার অপব্যবহার নির্দেশ করে।

এ ছাড়া মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলীর ছেলে জারান আলী চৌধুরীর সুপার সেভার হিসাবের মাধ্যমে এস. এন. করপোরেশন থেকে অর্থ জমা ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। ছাত্র হিসেবে তার আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে মায়ের ব্যবসা থেকে, যা সন্দেহজনক। মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির জুবিলি রোড শাখা থেকে এস. এন. করপোরেশনের সিসি (হাইপো) হিসাব থেকে নামরীন এন্টারপ্রাইজ ও শিপ ব্রেকিং খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে। এ ছাড়া নিড ড্রেসেস প্রাইভেট লিমিটেডের হিসাবে ৫০ দশমিক ৪০ লাখ টাকা জমা হওয়াও এই ধরনের সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে। দি সিটি ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবহার করে তিন কোটি টাকা জমা ও তা মিডওয়ে সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং ১০৬ কোটি টাকা জমা ও পরবর্তীতে এস. এন. করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে, যা কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে ব্যাবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার আশঙ্কাকে জোরদার করেছে।

এ ছাড়া দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখা অনুমোদন ছাড়া এস. এন. করপোরেশনকে ২৬ দশমিক ৯ কোটি টাকার এলটিআর সুবিধা দিয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের আগে শাখা কার্যালয় এ ঋণ সুবিধা দিয়েছে এবং পরে পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদন গ্রহণ করেছে, যা স্পষ্ট ব্যাংকিং নীতি ও রীতির লঙ্ঘন। 

এসব বিষয়ে জানতে রূপালী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একই সঙ্গে, বিএফআইইউর রিপোর্টে উঠে আসা অনিয়মগুলো নিয়ে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!