× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

গুম ও জুলাই হত্যাযজ্ঞ

ট্রাইব্যুনালে আসামি হচ্ছেন মামুন খালেদ-মাসুদ উদ্দিন

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

ট্রাইব্যুনালে আসামি হচ্ছেন  মামুন খালেদ-মাসুদ উদ্দিন

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুলাই হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে করা মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা। তারা হলেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। আগামী ৭ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিন তাদের উপস্থিতিতেই এসব মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময় গুমের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন দাখিল করেছি।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মিরপুর এলাকায় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। সিএমএম আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। অন্যদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও ফেনী ও ঢাকার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ-খালেদ ‘আওয়ামী লীগের দোসর ও দুষ্কৃতকারী’Ñ চিফ প্রসিকিউটর : সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ এবং ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, তাদের অতীতের বহু কর্মকা- মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা এরই মধ্যে জেনেছেন যে আমাদের ১/১১ এবং পরবর্তী সময় আমাদের ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের দুজন দোসর, অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধের কর্মকা-ের সঙ্গে তারা জড়িত। যারা এই দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন বিনষ্ট করবার জন্য এবং আয়নাঘরসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে খুন, গুম ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত; সেই রকম দুজন দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তা একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আরেকজন হচ্ছেন শেখ মামুন খালেদ। আপনারা দেখেছেন, এরই মধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তারা অন্য মামলায় পুলিশি হেফাজতে বা রিমান্ডে আছেন। তাদের অতীতের যে কর্মকা-, তাদের বহু কর্মকা-, আমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পড়ে।

অভিযুক্ত দুই আসামির সব অভিযোগ এখনই প্রকাশ করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আজকে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তারা বিশ^াস করেন, এই দুষ্কৃতকারীদের এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এ রকম সরকারি দায়িত্বে থেকে কোনো কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার সাহস না পান।

এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে পল্টন থানার মানবপাচার ও জালিয়াতির মামলায় গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে প্রথম দফায় পাঁচ দিনের এবং গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মানবপাচার মামলার পাশাপাশি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ১/১১ সময়কার ভূমিকার বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার এবং নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা আছে। অন্যদিকে, ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে ডিবি। মিরপুর থানার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালের একটি হত্যা মামলায় পরদিন বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ডিবি হেফাজতে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মাসুদ উদ্দিন ফের ৬ দিনের রিমান্ডে : ১/১১-এর আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার আইনের এক মামলায় ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল পল্টন থানার এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওহিদুল ইসলাম সজীবসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আগের পাঁচ দিনের রিমান্ডে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আসামি এড়িয়ে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!