× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মেহেদী হাসান খাজা ও বিল্লাল হোসেন, যশোর

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৪০ এএম

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনন্দে ভাসছে যশোর

মেহেদী হাসান খাজা ও বিল্লাল হোসেন, যশোর

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোর ঘিরে নতুন করে উন্নয়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন- দীর্ঘদিনের এসব চাহিদা বাস্তবায়নে বড় উদ্যোগের আভাস মিলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার যশোর সফরে এসে তিনি একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, যা যশোরকে একটি সমন্বিত উন্নয়নকাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফর করবেন। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তার প্রথম সফর। তার এই সফর ঘিরে যশোরে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

প্রধানমন্ত্রীর দিনভর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন, যশোর সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ও যশোর ক্লাব পরিদর্শন এবং বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাদান।

প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর সফল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোর তৎপরতার মধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা সম্পন্ন হয়েছে। জনসভা ও খাল খনন কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের সমাগম হবে এমন প্রত্যাশা জেলা বিএনপির।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে সোজা চলে যাবেন শার্শা উপজেলার উলাসীতে। সেখানে উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করবেন তিনি। এর পরপরই উলাসীতে অনুষ্ঠেয় সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা সোয়া ১টায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজে উপস্থিত হয়ে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে ফিরে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। সার্কিট হাউসে নামাজ ও দুপুরের খাবার গ্রহণ শেষে তিনি কেন্দ্রীয় ঈদগাহে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন বেলা সাড়ে ৩টায়। জনসভা শেষে তিনি যশোর ক্লাব পরিদর্শন এবং সেখানে নামাজ আদায় শেষে সার্কিট হাউস ঘুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে বিমানবন্দরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে গেল সপ্তাহজুড়ে যশোরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। ইতিমধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অগ্রবর্তী দল যশোরে এসে নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসংক্রান্ত সমন্বয় সভা হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা ছাড়াও এসএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। সভায় এসএসএফের পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বলে জানান সেখানে উপস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী যে খালটি পুনঃখনন করবেন, সেটি শার্শা উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। এই খাল খননের মাধ্যমে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তার সাড়া জাগানো খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ অবহেলার কারণে সেই খাল মজে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার বাবার স্মৃতিবিজড়িত খালটি পুনঃখনন করতে আসছেন জেনে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উলাসী-যদুনাথপুর খালটি পুনঃখননকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারবেন না। তবে দপ্তরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, উলাসীতে খাল পুনঃখননস্থল ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানের উপযোগী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজও সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হলো গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভিত্তিফলক তৈরি হয়ে গেছে। অন্যান্য কাজ শনিবারের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে আরও যে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, সে দুটি ঐতিহ্যবাহী। এর একটি হলো যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। যশোর ইনস্টিটিউট হলো বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯২৭ সালে আর্য থিয়েটার, টাউন ক্লাব ও লাইব্রেরিকে একীভূত করে রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার ‘যশোর ইনস্টিটিউট’ নামে একক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে যশোর ইনস্টিটিউটের অংশ পাঠাগার ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ পাবলিক লাইব্রেরি। তালপাতার পা-ুলিপিসহ আরবি, ফার্সি, উর্দু ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ ছাড়াও লক্ষাধিক বাংলা ও ইংরেজি বইসমৃদ্ধ এই পাঠাগার পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তারা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন শেষ সময়ে রং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, যশোর ক্লাব হলো এই জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ শাসনামলে মূলত এটি ছিল অফিসার্স ক্লাব। ক্লাবটির সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আজ বেলা সাড়ে ৩টায় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন। এই জনসভা সফলের লক্ষ্যে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। বিভিন্ন পর্যায়ে সভা, প্রচারপত্র বিতরণ, মাইকিং ও মিছিলের মাধ্যমে জনসমাগম নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নিরাপত্তার জন্য ২ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, ৭১টি বডি অর্ন ক্যামেরা ব্যবহারসহ র‌্যাবের ছয়টি টিম মাঠে থাকছে। ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও প্রশাসনের অন্যান্য ইউনিটও প্রস্তুত। সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, রাস্তা সংস্কার ও যানজট নিরসনে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে, এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরে উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার এক সমন্বিত চিত্র ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে যশোরের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। পরিকল্পিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে যশোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি কার্যকর উন্নয়ন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেÑ এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!