চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ২০২৪ সালের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান থেকে লাফ দিয়ে আলোচনায় আসে নামটি। বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে আশিকের ওই স্কাই ডাইভ গিনেস বুকে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পায়। এরপর সিঙ্গাপুর থেকে তরুণ ব্যাংকার আশিক চৌধুরীকে বিমানে করে উড়িয়ে আনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার। দেওয়া হয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। শুরু থেকেই একের পর এক প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্যোগী হন আশিক চৌধুরী।
গত বছরের এপ্রিল মাসে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে বিদেশি কিছু বিনিয়োগকারী জড়ো করে চার দিনের একটি বিনিয়োগ সম্মেলন করেন তিনি। ওই মাসেই আশিক চৌধুরী পান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা। কিন্তু গত ১৮ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ আনায় কোনো চমক দেখাতে পারেননি তিনি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বিনিয়োগ বাড়ানো তো দূরের কথা, উল্টো নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, কাতার, চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও কোরিয়া সফর করেছেন। কিন্তু এসব সফরে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল জায়গা পায়নি। ফলে এসব দেশ থেকে বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের প্রস্তাবও কমেছে। দেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের হারও নিম্নমুখী। বিনিয়োগ নিয়ে দু-একটি চেম্বারের সঙ্গে বৈঠক হলেও ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎ দেননি বিডার চেয়ারম্যান। তবে বিডার বহরে সেবা খাতের পরিধি বাড়লেও ব্যবসায়ীদের সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে অনেক ছোট-মাঝারি ও বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৫৫ লাখ কোটি টাকা। জিডিপির আকার ৫০-৫৫ লাখ কোটি টাকা হলেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে নিবন্ধন বা বিনিয়োগে ইচ্ছা প্রকাশ এক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, যা দেশের মোট জিডিপির মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে। যদিও সেবা সংযোগের বিলম্ব, জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতায় প্রকৃত বিনিয়োগ নিবন্ধনের অর্ধেক বা আরও কম। কত কম সেটি অর্থবছরের হিসাবেই একটু বোঝার চেষ্টা করি— দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছর জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের হার ছিল ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে। সে বছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছিল ২৮১ কোটি ডলারের, যা কিনা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহও ছয় মাস ধরে ৭ শতাংশের নিচে। অথচ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মাসেও এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের বেশি।
যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও সামিট আয়োজনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ দেখা গেছে। এসব আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের ভালো সাড়া পাওয়ার কথাও প্রচার করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। ব্যবসার পরিবেশ উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ খুব একটা হয়নি। গত অক্টোবরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসা পরিবেশ সূচক বা ক্লাইমেট ইনডেক্সে (বিবিএক্স) প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশে বলার মতো কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো এক বছরে আইন-কানুনের তথ্যপ্রাপ্তি, অবকাঠামো সুবিধা, শ্রম নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সহজীকরণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও মান—এই ছয় সূচকে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা আগের মতোই রয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট বেড়েছে। ঋণের সুদহার ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাসুল বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা অগ্রিম আয়কর ও উৎসে করের চাপে পিষ্ট হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশে ব্যবসার পরিবেশের তেমন কোনো উন্নতি না হলেও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বিদ্যমান ব্যবসা টেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
জানতে চাইলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘সরকার বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। সেখানে অনেক বিনিয়োগকারী জায়গা নিয়েছেন। তবে সেগুলো এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নয়। রাজস্বনীতি বিনিয়োগবান্ধব নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বেশি। তা ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেউ বিনিয়োগ করবেন না। তবে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো হাত গুটিয়ে বসে নেই।’
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বেসরকারি খাতে ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব বিডায় নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম। এ সময়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সংখ্যাও কমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাতারাতি পরিস্থিতি বদলানোর উচ্চাশা না দেখিয়ে, নিজেদের ঢোল না পিটিয়ে বরং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো সমাধানে কাজ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।
জানা যায়, বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক ধাপ নিবন্ধন। এরপর বিনিয়োগকারীরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নেওয়া, অর্থায়ন সংগ্রহ, অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধনের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীর আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য বলছে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিডার কাছে ৯৭০টি প্রকল্পে ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪টি প্রকল্পে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ।
অর্থবছর ভিত্তিক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোভিডকালের চেয়েও গত অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯০৫টি প্রকল্পে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২২৬ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছিল প্রায় ১২ শতাংশ। এর পরের ২০২০-২১ অর্থবছরে কোভিডকালে প্রকল্পের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৫টি হলেও টাকার অঙ্কে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে ৬৫ হাজার ৫৬৬ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্পের সংখ্যা ও বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ দুটোই বাড়ে।
আলোচ্য অর্থবছরে ১ হাজার ১২৪টি প্রকল্পে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ১৬টি প্রকল্পে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছিল। আলোচ্য অর্থবছরে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। গত অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮০৯টি প্রকল্পে ৫২ হাজার ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩২ শতাংশ এসেছে সেবা খাতে। তা ছাড়া এ সময়ে কেমিক্যাল খাতে ১৭ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ১৪ ও প্রকৌশল খাতে ১০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬১টি প্রকল্পে মোট ১৪ হাজার ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ে নিবন্ধিত বিদেশি বিনিয়োগের ৫৫ শতাংশই এসেছে কেমিক্যাল খাতে। অন্যান্য খাতের মধ্যে আলোচ্য অর্থবছরে প্রকৌশল খাতে ২৫ শতাংশ, সেবা খাতে ৮ ও বস্ত্র খাতে ৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলেই নতুন বিনিয়োগ আসা থমকে যায়। অনেক উদ্যোক্তা হয়তো নিষ্কণ্টক জমি পেয়েছেন। তবে মানসম্মত বিদ্যুৎ এবং চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। ব্যাংকের উচ্চ সুদ, ব্যবসার খরচ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। ফলে বিনিয়োগের অবস্থার উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।’ মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করেছে। তবে গ্যাস সংকটের সমাধানে বড় পরিকল্পনা করা দরকার ছিল। ব্যবসায়ীদের সেবা নিতে যেসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি যেতে হয়, সেখানে ডিজিটালাইজেশন করলে দুর্ভোগ কমত।’ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে। সে বছর ভারত ২৭ বিলিয়ন, ইন্দোনেশিয়া ২১ ও ভিয়েতনাম ২০ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এনেছে। দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের এফডিআই তিন বছর ধরে বেড়েছে। এদিকে ২০২২ সালে বাংলাদেশ এফডিআই পেয়েছিল ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর পাকিস্তান ১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।
বিনিয়োগ আকর্ষণে গত বছরের এপ্রিলে চার দিনের বিনিয়োগ সম্মেলন করেন আশিক চৌধুরী। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরীর প্রেজেন্টেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনাও হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সম্মেলনে মাত্র ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব আসে। দেশে বিনিয়োগ সম্মেলন করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সরকারি সফর করেন আশিক চৌধুরী। তবে এর কার্যকর ফল দেখা যায়নি, উল্টো কয়েকটি দেশ থেকে এফডিআই আসা কমেছে।
গত মার্চে বিনিয়োগ আকর্ষণে যুক্তরাজ্য সফর করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। সে সময় দেশটির সরকারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্রিটিশ কোম্পানি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দেশটি থেকে গত অর্থবছরে এফডিআই আসে ৩০ কোটি ডলার। তার আগের বছর দেশটি থেকে ৫১ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল। তার মানে দেশটি থেকে এফডিআই কমেছে ৪১ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে নির্বাহী চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। বিদায়ি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে বিনিয়োগ এসেছে, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাবসিত হয়েছে। তার মানে নিট বিনিয়োগ কমেছে ১৩১ শতাংশ। গত বছরের মার্চে বেইজিং সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিন মাস পর আশিক চৌধুরী দেশটি সফর করেন। যদিও গত অর্থবছর দেশটি থেকে এফডিআই আসা কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। এ ছাড়া জাপান, কাতার, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও কোরিয়া সফর করেছেন আশিক চৌধুরী। এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাপান ও এপ্রিলে কাতারে (প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিদলে) গেছেন তিনি। এর মধ্যে কাতার থেকে কোনো বিনিয়োগ আসেনি।
এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় জাপান থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে। যদিও বিগত আমলে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোড শো আয়োজন করে বিডা। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিটুবি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি পথনকশা তৈরি করেন। কিন্তু বর্তমান বিডা চেয়ারম্যান বিদেশ সফরে বিভিন্ন দেশে গেলেও কোনো ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সেখানে জায়গা পাননি। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়নি।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। আমলাদের বাইরে থেকে একজনকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করতে সাহসী সংস্কার করবেন। তবে গত দেড় বছরে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ছিটেফোঁটা যা সংস্কার হয়েছে, তা খুবই নগণ্য।’
এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের (আশিক চৌধুরী) মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিডা চেয়ারম্যানের অফিসিয়াল ই-মেইলে গত এক সপ্তাহে কয়েকবার প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করলেও বিনিয়োগের সূচকে সেই উন্নতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ও মোট বিনিয়োগের হার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

